আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

৬০০ টাকায় কত মিনিট!

 


একজন ডাক্তার,  মোঃ জাকির হোসেন
বেশ কয়েকমাস থেকে রুগি নিয়ে দৌড়া দৌড়ি চলছিল। বড়লেখা থেকে সিলেটের বেশকয়টি হাসপাতালে আমার যাওয়া আসা হয়েছিল। একটি অভিজ্ঞতা হয়েছিল, একজন রুগির জন্য সবচেয়ে ভরসার জায়গায় হলো ডাক্তার। একজন রুগিকে নিয়ে যখন আমি এক ওয়াড থেকে অন্য ওয়াডে ডাক্তার খুঁজতে ঘুরেছিলাম। তখন নিজেকে কত অসহায় মনে যা তা বুঝানোর ভাষা জানা নাই। নার্সরা অনেকটা বড়লোক বাড়ির সাহেবার মত। কথায় কথয় ঝাড়ি দেয়। মোট কথায় হাসপাতালে যারা সামান্য একটা চাকরি করে সবাই মনেহয় এ গেজেটেড কর্মকর্তা। কথা বলতে সিরিয়াল লাগে।
আরেকটা চিত্র দেখা যায় ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে। এখানে চলে টাকার খেলা। কতজন চেম্বারে ডুকানো গেলো এটাই মূখ্য বিষয়। আমি নিজে রোগি হওয়ার পরে উপলব্ধি করলাম, ডাক্তারের সময় নাই রোগির কথা শুনার। হসপিটালে ডাক্তারা দেখলে, একবার রোগির মুখ দেখলেই হলো আবার প্রাইভেট দেখালে, একসাথে ৪ জন ভুকাবে। রোগ জিজ্ঞেস করেই প্রেসক্রিপশন লিখা শুরু না হয় টেষ্ট। সর্বোচ্চ ৩-৪ মিনিটের মধ্যে রোগির ভবিষ্যৎ গড়ে দেন ডাক্তার।

কয়েকদিন আগে রোড এক্সিডেন্ট করে অসুস্থ হওয়ার পর, কয়েকজন ডাক্তার দেখালাম, কিন্তু ৩-৪ মিনিটের সিদ্ধান্ত বুঝার আগেই চেম্বার থেকে বের হতে হয়। আজ শুক্রবার একজন ডাক্তারের স্বরনাপন্য হই। ভাবছিলাম সবার মতই ৩-৪ মিনিট দেখবেন। কিন্তু, ডাক্তার মোঃ জাকির হোসেন, অর্থোপেডিক, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে কর্মরত। ডাক্তার সাহেবের অমায়িক ব্যবহার এবং আমাকে যে কাউন্সিলিং করলেন, আমি কি ভাবে সুস্থ হব তার একটা ম্যাপ একে দেখালেন। সময় নিলেন ৪০-৪৫ মিনিট। ঔষধের চেয়ে মনবল বাড়াতে কাজ করলেন। আমি মনে করি একজন ডাক্তার এমন হওয়া উচিৎ। একজন ডাক্তার পারেন রোগির ৭০-৮০% রোগ কমিয়ে দিতে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে।

দুলাল আহমেদ

নির্বাহী সম্পাদক

সুপ্রভাত সিলেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ জাতীয় আরও খবর