রবিবার (৩ আগস্ট) অতিরিক্ত দায়রা জজ (৫ম) আদালতের বিচারক ঝলক রায় এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারি সালেহ আহমদ বিষযটি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ভাই হলেন, কানাইঘাট উপজেলার বাকিবারাপৈত গ্রামের মৃত আবু শহীদের ছেলে বোরহান উদ্দিন (৪৬) ও তার ভাই আব্দুন নুর (৫৩)। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদেরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
অপর দুই আসামি মৃত সুলেমানের ছেলে ছইদুল (৫৮) ও ভাটিপাড়ার মৃত আবু শহীদের ছেলে সুলতানকে (৩৮) দশ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাশিম মারা যাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক এবং অপর ৩জন জেল হাজতে ছিলেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ২২ জুলাই দুপুরের দিকে বাড়ির সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলা হয়। আসামিরা মামলার বাদি আব্দুল্লাহর ঘরে ঢুকে ভাঙচুর করে। তার স্ত্রী সাজিদা প্রতিবাদ করলে আবুল কাশিম ঘরে ঢুকে দা দিয়ে কোপ মারেন। তার ভাই বোরহান রড দিয়ে আঘাত করলে সাজিদার চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আব্দুল্লাহ। তখন আসামিরা তাকেও মারধর করে।
আব্দুল্লাহকে রক্ষায় ছুটে আসেন তার বৃদ্ধ পিতা আবু বকর (৭১)। তাকেও আঘাত করা হয়। আব্দুল্লাহর শ্বশুর মাওলানা মঈন উদ্দিন (৬০) বাড়ি ফিরলে মারপিঠ করা হয় তাকেও। হামলার শিকার হন আব্দুল্লাহর শ্যালক হাবিবুর রহমান। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবু বকরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদের পাঠানো হয় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
এই ঘটনায় পরদিন (২৩ জুলাই) নিহত আবু বকরে ছেলে আব্দুল্লাহ বাদি হয়ে কানাইঘাট থানায় ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা (নং-১০/০৭) দায়ের করেন।
ঘটনার ৪ দিন পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাওলানা মঈন উদ্দিনও মৃত্যুবরণ করেন।
কানাইঘাট থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান ২০০৭ সালের ১৪ অক্টোবর ৫ ভাইসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি বিচারের জন্য সিলেট জেলা ও দায়রা জজ (৫ম) আদালতে স্থানান্তর হয় ২০০৮ সালের ৯ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কাও শুরু হয়।
মোট ১৯ জন সাক্ষির মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এপিপি নজরুল ইসলাম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন আব্দুল খালিক।
স্থান: কানাইঘাট, সিলেট
ঘটনার সময়: ২২ জুলাই ২০০৭
রায়ের তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
আদালত: সিলেট অতিরিক্ত দায়রা জজ (৫ম) আদালত
বিচারক: ঝলক রায়
ঘটনার পটভূমি:
২০০৭ সালে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আব্দুল্লাহর বাবা আবু বকর এবং শ্বশুর মাওলানা মঈন উদ্দিন নিহত হন।
অভিযুক্ত ও সাজা:
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত:
- বোরহান উদ্দিন (৪৬)
- আব্দুন নুর (৫৩)
- উভয়েই পলাতক।
- তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা।
- বিনাশ্রম কারাদণ্ড:
- ছইদুল (৫৮) – ১০ মাস
- সুলতান (৩৮) – ১০ মাস
- উভয়ে জেলহাজতে ছিলেন।
- অব্যাহতি:
- মামলার প্রধান আসামি আব্দুল কাশিম মৃত, ফলে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার অগ্রগতি:
- মামলা দায়ের: ২৩ জুলাই ২০০৭
- চার্জশিট: ১৪ অক্টোবর ২০০৭
- অভিযোগ গঠন: ৯ নভেম্বর ২০০৮
- সাক্ষ্যগ্রহণ: ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়
- রায় ঘোষণা: ৩ আগস্ট ২০২৫
বিশ্লেষণ:
- বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘতা: প্রায় ১৮ বছর সময় লেগেছে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হতে, যা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার পরিচয় বহন করে।
- দুই আসামি পলাতক থাকা সত্ত্বেও রায় ঘোষণা: এটি বিচার ব্যবস্থার দৃঢ়তা প্রকাশ করে, যদিও রায় কার্যকর করতে তাদের গ্রেপ্তার এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
- পুলিশ ও প্রসিকিউশনের কার্যক্রম: চার্জশিট দাখিল ও সাক্ষ্য সংগ্রহের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
