সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সাদা পাথর লাগামহীন লুটপাটে প্রায় পাথরহীন হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ধলাই নদের উৎসমুখে বিপুল পরিমাণ পাথর জমা হয়। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এ এলাকা এখন দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে লুটের কবলে। শত শত নৌকা দিয়ে প্রতিদিন এসব পাথর পরিবহন করা হচ্ছে। নদীর তীর থেকে বালি ও মাটিও খুঁড়ে নেওয়া হচ্ছে, ফলে এলাকা বিরাণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত দুই সপ্তাহে অন্তত শতকোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। এমনকি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ফাঁড়ি এলাকা পেরিয়ে জিরো পয়েন্ট দিয়েও পাথর পাচার হচ্ছে।
২০১৭ সালের পাহাড়ি ঢলে প্রথমবারের মতো এখানে পাঁচ একর জায়গাজুড়ে বিপুল পরিমাণ পাথর জমা হয়, যা ‘সাদা পাথর’ নামে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাথর সংরক্ষণ ও পাহারার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এলাকা আবারও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঢলের কারণে পানির প্রবাহ বেড়ে পর্যটকরা কম আসছেন। এ সুযোগে সংগঠিত চক্র রাত-দিন মব স্টাইলে নৌকায় করে পাথর লুট করছে। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের মাহমুদ আদনান বলেন, “ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযানে গেলে আমরা সহায়তা করি। তবে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে লুট ঠেকানো সম্ভব নয়।”
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী জানান, “সাদা পাথর পর্যটন এলাকায় পাথর উত্তোলনের ভিডিও আমি দেখেছি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
