বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সাবেক সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়ের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সম্প্রতি বিএফআইইউ থেকে দিলীপ কুমার রায় এবং তার পরিবারের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত লেনদেনের তথ্য চেয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান তদন্তের স্বার্থে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দুদক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি দিলীপ কুমার রায়ের পাশাপাশি তার স্ত্রী অঞ্জলী রায় এবং মেয়ে পিয়াঙ্কা রায়ের ব্যাংক হিসাবও তলব করা হয়েছে।
বিএফআইইউর পাঠানো চিঠিতে তাদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত সব ধরনের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (এফডিআর)সহ বিভিন্ন আর্থিক নথি। পাশাপাশি হিসাব খোলার ফরম ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠি পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে এসব তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, দিলীপ কুমার রায় বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন না। তিনি স্বপরিবারে কানাডায় অবস্থান করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা পাঁচ মেয়াদে প্রায় ১৫ বছর তিনি এই পদে ছিলেন। এ সময়ে তিনি ২৭টি নতুন হোমিওপ্যাথি কলেজের অনুমোদন দেন।
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও তার উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ঢাকার বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের দুটি দোকান কিনে তিনি ‘গ্রামীণ জুয়েলার্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বসুন্ধরা সিটি মার্কেটে ডায়মন্ডের একটি শোরুমও গড়ে তোলেন।
দিলীপ কুমার রায়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ দুদকে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করা হলে সেটি সচল থাকলেও সেখান থেকেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
