বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপি গড়িমসি করছে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ ভোটের মাধ্যমে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করা হলে দেশ আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে এগোতে পারে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তনের মতো মৌলিক বিষয়ে বিএনপি যে ভিন্নমত দিয়েছিল, তা গণভোটে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। জুলাই সনদের স্বাক্ষরকারী দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল এই জনরায় মেনে নেওয়া। কিন্তু তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিয়ে এবং বৈঠক এড়িয়ে গিয়ে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট নিরসনের দায়িত্ব এখন বিএনপিরই। সরকারকেও সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাত্র এক মাসের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদী ভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপির ভিন্নমতকে তিনি কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে; কৃষিতে সেচ সংকট দেখা দিচ্ছে, যা খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়াতে পারে।
ভোলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জামায়াতের এক নারী নেত্রীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়ও তিনি সমালোচনা করেন। একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরানোকে তিনি অমানবিক বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের নিন্দা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
