ময়মনসিংহের অষ্টধার এলাকায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে প্রকাশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরে অচেতন অবস্থায় ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার এক মাস পার হলেও এখনো মামলা রুজু করেনি ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। উল্টো তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ এবং মামলার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অষ্টধার ইউনিয়নের পান্ডাপাড়া এলাকায় ইমান আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ৩-৪ জন সহযোগীকে নিয়ে ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে দুই দিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের পর মেয়েটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির পাশেই ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।
ঘটনার পর গত ৪ মার্চ ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বিচার চেয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তৎকালীন ওসি নাজমুস সাকিব বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই নুরুল ইসলামকে।
তবে ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর এসআই নুরুল ইসলাম অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার বা মামলা রুজুর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন পরিবারটিকে ঘুরিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগ, মামলা এফআইআরভুক্ত করার কথা বলে ওসির নাম ব্যবহার করে এসআই নুরুল ইসলাম তার কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও আজ পর্যন্ত মামলা রুজু করা হয়নি।
মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার না পেয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমার মেয়েকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আর পুলিশ বিচার না দিয়ে উল্টো আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না?”
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতমূলক আচরণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং জাহাঙ্গীর আলমসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নুরুল ইসলাম মুঠোফোনে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
