সিলেটের বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববিবাহিত এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলার রায় আজ মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে। ঘটনার ৫ বছর ৯ মাস ১৮ দিন পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই বহুল প্রতীক্ষিত রায় দেবেন।
এর আগে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ১৪ জুলাই রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।
মামলায় অভিযুক্ত আটজন হলেন—নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক), অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। তারা সবাই সিলেট নগরের টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর বিচারকালে মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন নির্যাতনের শিকার তরুণী ও তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের একজন অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।
তবে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বাদীর কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অসন্তোষের বিষয়টিও আদালতে উঠে আসে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ঘটে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই নৃশংস ঘটনা। শাহপরান মাজার থেকে ফেরার পথে এক নবদম্পতির প্রাইভেটকার থামিয়ে কয়েকজন যুবক তাদের ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে জিম্মি করে গাড়ির ভেতর নববিবাহিত তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। পরে দম্পতিকে মারধর করে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত গাড়িটিও আটকে রাখা হয়।
ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত দুজনকে আসামি করে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় প্রাইভেটকার আটকে রেখে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। পরবর্তীতে দুটি মামলার বিচার একসঙ্গে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে আটজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়।
আজকের রায়কে ঘিরে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি আদালতের দিকে। আলোচিত এই মামলায় দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আজ সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
