নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বরলেখার শাহবাজপুরে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করায় স্থানীয় ক্ষমতাসীন দল–সমর্থিত চক্র ও তাদের মদদপুষ্ট পুলিশের হাতে এক ফার্মেসি মালিকের ওপর হামলা ও অন্যায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. মইনুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও কথিত ইয়াবা ব্যবসায়ী তাজ উদ্দিনের বিরোধিতা করায় পুলিশ তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করে আটক করে এবং নির্যাতন চালায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ জুন ২০২৩ তারিখে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করার দুই দিনের মাথায় পুলিশ তার ফার্মেসিতে যায় এবং অভিযোগ তোলে যে তিনি নাকি ফার্মেসি থেকে মাদক বিক্রি করেন। এরপর কোনোরকম আনুষ্ঠানিক চার্জ ছাড়াই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মইনুল ইসলাম বলেন,
“পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যায় এবং বারবার জেরা করে বলে আমি নাকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, এমনকি বিরোধী দলকে নাকি অর্থ দেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানানো। আমি যখন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করলাম, তখনই আমাকে টার্গেট করা হয়।”
তার দাবি, হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং প্রায় ২৬ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে তার বাবা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুদর্শন কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ জানায়, ভবিষ্যতে যেকোনো সময় তাকে ডাকলে হাজির হতে হবে।
উল্লেখ্য, মইনুল ইসলাম বড়লেখা এলাকায় “ফ্রেন্ডস ক্লাব”-এর ব্যানারে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিশোর-তরুণদের নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তার এই উদ্যোগে অনেক কিশোর মাদক ছাড়ার জন্য সাহায্য চাইতে শুরু করলে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ব্যবসায় ধস নামে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় একটি বড় মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। ফলে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হামলা, হুমকি বা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর থেকে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। পুলিশ ও স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের হুমকির কারণে তারা এলাকায় নিরাপদ নয় বলে জানান।
