ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নে এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাভোগ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই কিশোরীর সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানটির জৈবিক পিতা তারই বড় ভাই মোরশেদ।
পুলিশ জানায়, কিশোরীর পরিবার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছিল। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। এ ঘটনায় তিনি মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর চাকরিও হারান। মামলার খরচ চালাতে জমি বিক্রি করতে হয় বলেও জানান তিনি।
তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে প্রথমে মোজাফফরের সঙ্গে শিশুটির কোনো মিল পাওয়া যায়নি। পরে কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। এরপর পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে মোরশেদের ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যায়। এর ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমদকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন এবং মোরশেদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।
অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, মিথ্যা অভিযোগে তিনি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি কারাভোগ ও মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, গভীর তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে এবং নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা ধরা পড়েছে।
