মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বহুল আলোচিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের ১১ মামলার আসামি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ও হুন্ডি কারবারি সাইদুল ইসলাম এবার যোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে।

সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে গত ৪ অক্টোবর শনিবার নিজ গ্রাম বড়লেখার গাজীটেকা আইলাপুরে এক “শুকরানা সমাবেশের” মাধ্যমে জামায়াতে যোগ দেন। সমাবেশে জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য ফরম পূরণ করেন।
জামায়াতে ইসলামী বড়লেখা উপজেলা আমির ইসলাম উদ্দিন বলেন, “সাইদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ের শিকার হচ্ছেন। তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, বিশেষ করে মাদক ও হুন্ডি চোরাচালানের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা মজলুমের পাশে আছি, এবং যারা নিপীড়নের শিকার, তাদের পাশে দাঁড়ানো জামায়াতের নীতি।”
ইসলাম উদ্দিন আরও বলেন, “সাইদুল ইসলামের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার। তাঁদের প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা থেকেই আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি।”
নতুন সদস্য সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা মেনে চলব। আমি শুরু থেকেই জামায়াতের নেতৃত্ব ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। সেই অনুপ্রেরণাতেই আমি জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি।”
উল্লেখযোগ্য যে, প্রায় ছয় মাস আগে সাইদুল ইসলাম গ্রেফতার হলে বড়লেখা উপজেলা বিএনপি তাঁর গ্রেফতারে আনন্দ মিছিল বের করে। তবে জামিনে মুক্তির পর তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। যা কিছু অর্জন করেছি, তা বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী আমলে সাইদুল ইসলাম ছিলেন সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ এবং সাবেক বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহচর। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, বিশেষ করে মাদক, স্বর্ণ চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার খবর স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ছিল।

তবে জামায়াত নেতারা বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি অনুতপ্ত হয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিতে চায়, জামায়াত তার দাওয়াত ফিরিয়ে দেয় না। সদস্য হওয়ার পর তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তাঁকে চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
https://www.facebook.com/share/v/19im86oiD2/
