দুলাল আহমদঃ কাদির মিয়াকে (২০) র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৬ দিন আগে। অথচ আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। র্যাবের নানা দপ্তর বা পুলিশ, কেউ তার তথ্য দিতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ কাদির মিয়াকে তুলে নেয়নি বলে দাবি করছে তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলেও থানা নেয়নি। এমতাবস্থায় তারা প্রচণ্ড অসহায় হয়ে পড়েছে। কাদির মিয়া র মা কান্না করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলের সন্ধান চাই। যে শাস্তি দেয় দিক। আমরা অন্তত দেখতে তো পাব। মেরে ফেলা হলেও আমার ছেলের লাশ দিক।নিখোঁজ যুবক সিলেটের, বিয়ানীবাজারের উপজেলার বড়নালাই গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রউফের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট। বড় ভাই সৌদি আরব প্রবাসী শ্রমিক। বাড়িতেই মা ও ভাবির সঙ্গে থাকতেন তিনি। গত ২৯ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২ দিকে বাড়ি থেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।
কাদির মিয়ার পরিবার জানায়, ওই রাতে র্যাবের পোশাক পরা ১০-১৫ জন ও সাদা পোশাকের ২৫-৩০ জন তাদের বাড়ি গিয়ে কাদির মিয়াকে ঘর থেকে আটক করে। কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে তার নামে অভিযোগ আছে বলে জানায়।
কাদির মিয়ার মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘রাতে তারা এসে দরজায় কড়া নাড়ে। আমি ভেবেছি বড় ছেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা থাকায় তাকে না পেয়ে ছোট ছেলেকে ধরে নিয়ে যেতে পারে। তাই কাদির মিয়াকে ঘরের সিলিংয়ের ওপরে লুকিয়ে রাখি। পরে দরজা খুললে বেশ কয়েকজন ঘরে ঢুকে তল্লাশি করে। এরপর তারা সিলিংয়ে খোঁজ করতে গেলে কাদির মিয়া নিচে নেমে আসে। পরে তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।
কাদির মিয়ার বোনের স্বামী মশিউর রহমান বলেন, ‘ভোরেই সিলেট র্যাব ক্যাম্পে যাই। তারা বিয়ানীবাজার থানায় খোঁজ নিতে বলেন। আমরা বিয়ানীবাজার থানায় খোঁজ নিই। সেখানেও তাকে পাইনি। এরপর সিলেট ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও কোনো সন্ধান পাইনি। আবার সিলেট র্যাব ক্যাম্পে আবার যোগাযোগ করলে তারা বিয়ানীবাজার থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন। বিয়ানীবাজার থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ র্যাবের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাইনি।’
