মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরের ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালে টানা পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। ডানকান ব্রাদার্স লিমিটেডের অধীনস্থ এই হাসপাতালের প্রধান রোগী চা শ্রমিকরা। হঠাৎ সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
গত ২৭ মার্চ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঐশী রবিদাস (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা হাসপাতালে গিয়ে ভাঙচুর চালান এবং চিকিৎসক ও স্টাফদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হাসপাতালের ইনচার্জ ডা. আনোয়ার হোসেনকে নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নেয়। এরপর অন্যান্য চিকিৎসক ও নার্সরাও নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। সেই থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শমশেরনগর চা বাগানের রবিদাস টিলার বাসিন্দা বাবুল রবিদাসের মেয়ে ঐশী রবিদাস মাথাব্যথা নিয়ে ২৬ মার্চ রাতে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়, যা ঘিরেই এ অচলাবস্থা তৈরি হয়।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫০ শয্যার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন হাসপাতালটি ডানকান ব্রাদার্সের ১৫টি চা বাগানের প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। একসময় এখানে অস্ত্রোপচারসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটে কয়েক বছর ধরে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে নিয়মিত চিকিৎসা ও পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল।
বর্তমানে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় চা শ্রমিকরা উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানান, ঘটনার দিন পরিস্থিতি শান্ত হলেও চিকিৎসকরা এখনো ফিরে আসেননি। এতে শ্রমিকরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু, পূর্বের মতো অপারেশন সুবিধা পুনরায় চালু এবং ঐশী রবিদাসের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।
এ বিষয়ে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপমহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল খোলা থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি জানান।
