প্রতিবেদন (নিজস্ব প্রতিবেদক)
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বিখ্যাত শাহ আরেফিন টিলা আজ আর টিলা নেই—শুধুই বিরানভূমি। এক বছরের ধারাবাহিক পাথর উত্তোলনে ১৩৬ একরের এই ঐতিহাসিক পাহাড় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও যুবদলসহ অন্তত ২৬ সদস্যের সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় এখানে দরবেশ হজরত শাহ আরেফিন (রহ.)-এর আস্তানা, মসজিদ ও কবরস্থানকে ঘিরে ভক্তদের আনাগোনা ছিল। কিন্তু পাথরের লোভে মাজারের চারপাশসহ পুরো টিলাই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এক সময় যে পাহাড় সূর্যখাল হয়ে সোনাই নদীতে পানি পাঠাত, আজ তা ভরাট হয়ে আছে বালু-মাটিতে। টিলার ভেতরে তৈরি হয়েছে পুকুরসম গর্ত আর একাধিক ট্রাক চলাচলের রাস্তা।
প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরুর পর তিন দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সরানো হয়নি। অনেকেই সুযোগের অপেক্ষায় আছেন আবারও উত্তোলনে নামার।
পাথর লুটের অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, যুবলীগ, যুবদল, জামায়াতের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। প্রতিদিন ২০–৪০টি ট্রাকে কোটি কোটি টাকার পাথর বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানিয়েছেন, পাথরখেকোদের বাধা দিতে গিয়ে অন্তত চারবার পুলিশ হামলার শিকার হয়েছে। বর্তমানে উত্তোলন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি এখনো রয়ে গেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার বলেন, “গত এক বছরে একাধিক অভিযান চালিয়েছি। মামলাও হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিলাটি রক্ষা করা যায়নি।”
এভাবে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পাথর লুটের ফলে শুধু একটি ঐতিহাসিক টিলাই নিশ্চিহ্ন হয়নি, বরং ধ্বংস হয়ে গেছে একটি ধর্মীয় ও পরিবেশগত ঐতিহ্যও।
