সিলেট প্রতিনিধি :
সাদা পাথরের প্রকৃত লুটেরাদের আইনের আওতায় না এনে গরিব দিনমজুরদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখা। শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন।
এর আগে সিলেটের নদী, পাহাড় ও প্রকৃতিকে শাসক-শোষক গোষ্ঠীর লুণ্ঠন থেকে রক্ষার দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পরে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সরকার এবং পরিচালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটন স্পট থেকে শতকোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। অথচ প্রকৃত লুটেরা ও তাদের মদতদাতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে, আর উল্টোভাবে গরিব দিনমজুরদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তারা মূলত চুনোপুঁটি; অথচ রাঘববোয়ালরা অদৃশ্য রয়ে গেছেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযানের নামে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারকি শ্রমিকদের নৌকা ভেঙে দিয়েছেন। এতে তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ধ্বংস হয়ে গেছে। অসহায় শ্রমিকরা কোনো প্রতিবাদ করারও সুযোগ পাননি।
তারা উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ আমল থেকে আশির দশক পর্যন্ত সিলেটে সনাতন পদ্ধতিতে (বেলচা, বালতি, নেট) বালি-পাথর উত্তোলন করা হতো, যা পরিবেশের জন্য হুমকি ছিল না বরং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করত। অথচ বর্তমান লুটপাটমুখী আধুনিক পদ্ধতিই প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে।
এসময় বক্তারা বালি-পাথর মহালে ইজারা প্রথা বাতিল, সনাতন পদ্ধতিতে বারকি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, সরকারিভাবে ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি সাদা পাথর লুটে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও দাবি তোলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া, স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, শ্রমিক নেতা আনোয়ার হোসেন, সাবেক সহ-সভাপতি মীর মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, শাহপরাণ থানা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. নাছির মিয়াসহ অনেকে।
শেষে নেতৃবৃন্দ দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নদী, পাহাড় ও প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
