সিলেট নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে সুরমা নদীকেন্দ্রিক বড় উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীতে স্লুইস গেট নির্মাণ এবং নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় ওয়াকওয়ে গড়ে তোলা হবে।
আগামী ২ মে সিলেট সফরে এসে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সুরমা নদীর তীর পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানান সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমও উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে সিলেট নগরকে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নদীর দুই তীরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ, আধুনিকায়ন ও নান্দনিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য নির্মিত হবে আধুনিক ওয়াকওয়ে, নদীতীর সৌন্দর্যবর্ধন অবকাঠামো এবং স্লুইস গেট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে একদিকে যেমন নগরবাসী নান্দনিক নদীতীর পাবে, অন্যদিকে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সুরমা নদীকেন্দ্রিক পরিকল্পিত উন্নয়ন নগরের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নদীতীর গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া সিলেটকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে সরকার একাধিক বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ, রেলপথে ডাবল লাইন নির্মাণসহ আরও কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সিলেট সফরকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটি প্রথম সিলেট সফর। এ সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মৃতপ্রায় সুরমা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে খননসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুরমা নদীর উৎপত্তিস্থল জকিগঞ্জের আমলসীদ থেকে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের মারকুলি পর্যন্ত নদী খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে সুরমা ও কুশিয়ারার নাব্যতা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও সুফল মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ের ‘নতুনকুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’ উদ্বোধন, খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানান সিসিক প্রশাসক।
পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এ সময় সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য্য ও লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
