দুলাল আহমদঃ  বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ ভাগ উত্তর ইউনিয়নের সন্তান লোকমান (১৪) পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নেতা, আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে, বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে ৭১ এর যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পর সারা দেশের ন্যায়, বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির সড়ক অবরোধ করে দক্ষিণভাগ, রতুলি, কাঁঠালতলী, দাশেরবাজার, তালিমপুর ও শাহবাজপুরে মিছিল বের করেন। সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে, সারা দেশে সরকার বিজিবি, RAB ও পুলিশ মোতায়েন করেন। কাঁঠালতলীর মিছিলে পুলিশ ধাওয়া দিলে বিক্ষোভকারীরা পিছু না হটলে পুলিশ ৭০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। যেখানে ৩জন গুলিবিদ্ধ সহ প্রায় ৩০ জন আহত হন। মিছিলে গুলিবিদ্ধ ৩জনের মধ্যে লোকমান হোসেনের বুকে গুলি লাগলে, তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তার লাশ এনে হসপিটালে নিতে চাইলে পুলিশের গুলির মুখে তা সম্ভব হয়নি। তাই পুলিশ লোকমানের দেহ নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে লোকমানের পরিবার লোকমানের লাশ ফেরত এবং মামলা করার চেষ্টা করা হলে, তৎকালীন বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ, কামরুল হাছান বলেন, লোকমানের পরিবারকে মামলা করতে হবেনা, তারা মামলা করবেন লোকমানের পরিবারের পক্ষ থেকে। লোকমানের পরিবার এ প্রস্তাবে রাজি না হলে, লোকমানের লাশ না দেওয়ার কথা বলেন তাই বাধ্য হয়েই তার পরিবার মামলা না করে লোকমানে লাশ দেওয়ার কথা বলেন। ১ মার্চ বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ শর্তের মধ্যে লোকমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরবর্তীতে, যার নেতৃত্বে মিছিলে গুলি হয়েছিল, সেই এস. আই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে ৩০জন জামাত নেতার নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩হাজার জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশের গুলিতে নিহত হলেও উলটো জামাত নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

লোকমানের পরিবার তাদের ছেলের হত্যাকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করলেও পুলিশের বার বার হুমকির মুখে তা সম্ভব হয়নি। উলটো তাদের বলা হয়েছে, যদি মামলা করার চেষ্টা করা হয় তাহলে, তাদের বড়লেখায় থাকতে দেয়া হবেনা। তার পরিবার গত ১০ বছর থেকে ছেলের হত্যার বিচারের আহাজারি দিয়ে বেঁচে আছেন।

কাঁঠালতলীর সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে দিন লোকমানের লাশকে কেন্দ্র করে তাদের এলাকায় এক যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছিল। হাজার হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করে এলাকার মানুষের মনে এক আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছিল। ৭০ উর্দ এক ব্যক্তি বলেন ১৯৭১ এ আমরা এমন অবস্থা দেখি নাই যা সে দিন দেখেছিলাম

লোকমানের মায়ের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং তার ছেলে হত্যার বিচারের আশায় ১০ বছর থেকে অপেক্ষা করছেন বলে জানান। লোকমানের হত্যা মামলার বিষয়ে তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, আমরা হত্যাকারী পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার করা দূরের কথা, উলটো লোকমানের সহকর্মীদের মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান এবং বলেন, জামাত শিবিরের নেতা কর্মীরা তার পরিবারের পাশে সব সময় থাকেন। ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে বিচার চাইবেন কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাছিনা সেভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে দেশ দখল করে আছেন তাকে এ জীবনে সরানো সম্ভব হবে না। আর যদি নতুন কোন সরকার আসেন তাহলে বিচারের জন্য চেষ্টা করবেন।

বড়লেখা জামায়াতের আমির এমাদুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গত ১০ বছর থেকে লোকমান হত্যা মামলার জন্য আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। তার কর্মীর মৃত্যুর বিচার না হয়ে উলটো তাদের আসামি করায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার অসহায়ত্বের কথা বলে, আল্লাহর কাছে বিচারের ভার ছেলে দিয়েছেন বলে জানান। তবে তিনি বলেন, তার কর্মীর হত্যার যে মিথ্যা মামলার দায় যে তাদের দেয়া হয়েছে তা থেকে তারা মুক্তি চান এবং প্রকৃত আসামি তৎকালীন এস আই কামরুজ্জামানের বিচার দাবি করেন।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *