নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২:
সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে চুরির মামলা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের অভিযোগ—কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা মিয়ার প্ররোচনায় এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন “সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটি”-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী রাকিব আহমদ বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি চুরির মামলা করেন। মামলায় মিজান উদ্দিনকে ১নং আসামি, মানবাধিকারকর্মী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে ২নং, কবির মিয়াকে ৩নং ও বদরুল ইসলামকে ৪নং আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুলাই। কুড়ারবাজার এলাকার রাকিব আহমদের দোকানে চুরির অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে যুবক মিজান উদ্দিনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতা মিয়ার কাছে নিয়ে যান। সেখানে মিজানকে ‘চোর’ অপবাদে মারধর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সাকসেস হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’র সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন এবং আহত মিজানকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর দাবি জানান। পরে চেয়ারম্যান নিজেই মিজানকে হাসপাতালে ভর্তি করান।
প্রায় দুই মাস চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন মিজান উদ্দিন। কিন্তু এর পরপরই ১৪ সেপ্টেম্বর দোকান মালিক রাকিব আহমদ থানায় চুরির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। এতে মানবাধিকারকর্মী সেলিম উদ্দিনসহ চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ উজ্জামান। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, মানবাধিকারকর্মীদের ভয় দেখানো ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এ মামলা সাজানো হয়েছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন
