চার মাস ধরে বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী সোমবার সকালেই দেশে ফিরছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে প্রথমে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন এবং সেখান থেকে একই ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকবেন তাঁর দুই পুত্রবধূ—জুবাইদা রহমান ও শর্মিলা রহমান, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, এপিএস মাসুদুর রহমান এবং গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম ও রূপা হক।
সিলেট বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করবেন তিনি। সেখানে সিলেট বিভাগীয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবে। তবে তিনি কোনো জনসভা বা সমাবেশে অংশ নেবেন না বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “নেত্রীর আগমন উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।” মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “দীর্ঘদিন পর নেত্রী সিলেটে আসছেন, এটি আমাদের জন্য আবেগপূর্ণ একটি মুহূর্ত।”
২০১৮ সালে একটি দুর্নীতির মামলায় কারাগারে পাঠানো হয় খালেদা জিয়াকে। করোনাকালে শর্তসাপেক্ষে তিনি মুক্তি পান এবং ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন, মামলাও বাতিল হয়। এরপর চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয় এবং ২৫ জানুয়ারি থেকে তিনি তারেক রহমানের লন্ডনের বাসায় অবস্থান করছেন।
লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন, যা এর আগে চারটি ঈদ তাঁকে জেলে ও হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল। বর্তমানে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হার্টের সমস্যা এবং ডায়াবেটিসসহ বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। দেশে ফিরে তাঁর চিকিৎসা অব্যাহত থাকবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
