অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী জোট।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ নিয়ে। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিশেষ কমিটিতে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাস করার বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। কিন্তু বিলটি পাসের মাত্র ৩০ মিনিট আগে হঠাৎ একটি সংশোধনী আনা হয়।
সংশোধনীতে জাদুঘরের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবে বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব করা হয়। নাহিদ ইসলাম একে ‘দলীয়করণের প্রতিফলন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে পূর্বের সমঝোতা ভঙ্গ হয়েছে।
তবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানান, সংশোধনীটি সরকার নয়, একজন বেসরকারি সদস্য আনিসুর রহমান প্রস্তাব করেছেন। তিনি দাবি করেন, পর্ষদের প্রধান হিসেবে মন্ত্রী থাকা একটি প্রচলিত প্রথা এবং এতে দলীয়করণের কিছু নেই।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেকোনো সদস্য সংশোধনী আনতে পারেন। তিনি আরও জানান, এই সংশোধনীর মাধ্যমে পর্ষদের সদস্যদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলোচনা ছাড়া শেষ মুহূর্তে সংশোধনী আনা আস্থার সংকট তৈরি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন না করে আটকে রাখা হয়েছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, এসব অধ্যাদেশ আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করতে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং পরবর্তীতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করেই তা আনা হবে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী জোট।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আস্থা হারিয়ে এখানে থাকা অর্থহীন,’ এবং এর পরই তারা ওয়াকআউট করেন।
অধিবেশন চলাকালে স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত বাকবিনিময় হয়। স্পিকার ভবিষ্যতে বিলগুলো আনার আশ্বাস দিলেও বিরোধী পক্ষ তা গ্রহণ করেনি।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত জাদুঘরে ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে এবং এটি জাতির সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
