সিলেট, ৪ আগস্ট ২০২৫:
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদ এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে বারবার সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি এবং প্রাণনাশের হুমকির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারটি পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে।
রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন শামীমাবাদের ১৮৩ নম্বর বাসার বাসিন্দা এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পূজা মন্ডল।
চাঁদার দাবিতে হামলা, সিসিটিভি ভাঙচুর
লিখিত বক্তব্যে পূজা জানান, তার বাবা তপন কুমার মন্ডল প্রবাসে থাকেন এবং মা গীতা রানী ছোট ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় বসবাস করেন। ২০১৩ সালে চার শতক জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করার পর দশকের বেশি সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের হয়রানি শুরু হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পার্শ্ববর্তী প্লট মালিক সুহেল বেগ ও তার সহযোগীরা (রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বি) গীতা রানীর বাসার মালিকানা দাবি করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে দেয়ালের একটি অংশ ভাঙচুর করে, বাসায় হামলা চালায় এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে।
হামলার সময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন। বাসায় ছিলেন কেবল তার দুই সন্তান। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার আগে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়।
থানায় মামলা নিতে পুলিশের অস্বীকৃতি
ঘটনার পরপরই গীতা রানী কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং দুটি মামলার আবেদন করেন।
সংখ্যালঘু পরিবার হওয়ার কারণে টার্গেট?
সংবাদ সম্মেলনে পূজা মন্ডল দাবি করেন, “আমাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আমাদের দুর্বল মনে করে চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুরা আমাদের বাড়ি দখলের পাঁয়তারা করছে। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখত, তাহলে এত দূর পরিস্থিতি গড়াত না।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজর প্রয়োজন
এই ঘটনায় স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
