দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর কারাভোগের পর সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় খালাস পাওয়া চার আসামি মুক্তি পেয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। কারাফটকে আগে থেকেই উপস্থিত স্বজন ও বন্ধুরা ফুল দিয়ে তাদের বরণ করেন।
কারামুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের খালাসের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর এবং তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম রনি ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের টিলাগড় গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
রায়ের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী বলেন, মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ছিল না এবং ভুক্তভোগীও তাদের শনাক্ত করেননি। তার দাবি, অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
রায় ঘোষণার আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় কয়েকজন আসামি সাংবাদিকদের উদ্দেশে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারা ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে তাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক তরুণী স্বামীর সঙ্গে প্রাইভেটকারে করে শাহপরান মাজার এলাকায় বেড়াতে যান। ফেরার পথে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে তাদের জিম্মি করে কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে বেঁধে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও প্রাইভেটকার ও অর্থ রেখে দেয় অভিযুক্তরা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব ছয় আসামি এবং সন্দেহভাজন আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
একই বছরের ৩ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আটজনকেই এমসি কলেজ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খালাস পাওয়া চারজনের ছাত্রত্ব ও শিক্ষাসনদ বাতিল করে। অন্যদিকে, ছাত্রাবাস থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক মামলায় সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দাখিল করা হয়।
