নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে অবরোধ করেছেন এক মর্মান্তিক মা। নিহত কিশোর রবিউল ইসলাম নাইমের লাশ সামনে রেখে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওসমানীনগর থানার সামনে এই অবরোধ চলতে থাকে। অবরোধে নিহতের পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এর ফলে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট ও চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
❝ আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে ❞ – দাবি মায়ের
৫৫ বছর বয়সী পারুল বেগম দাবি করেন, তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে রবিউল ইসলাম নাইমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি রেস্টুরেন্ট মালিক বুলবুল মিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলে তার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
রবিউল ইসলাম নাইম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়া ও পারুল বেগমের দ্বিতীয় সন্তান। সে ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকার সুপ্রিম ফিলিং স্টেশনের পাশে বগুড়া রেস্টুরেন্টে নাইট শিফটে কাজ করত। ২৬ জুলাই রাতে ডিউটিতে যাওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। এরপর তার পরিবার ওসমানীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুলাউড়ায় উদ্ধার হয় রবিউলের লাশ
গত ৩ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার বরমচাল রেলস্টেশনের পাশে একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে কুলাউড়া থানা পুলিশ। সংবাদ পেয়ে রবিউলের পরিবার সেখানে গিয়ে মৃতদেহটি সনাক্ত করেন।
রবিউলের ভাই কাইয়ুম অভিযোগ করেন, “আমার ভাইকে বুলবুল মিয়া পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ কুলাউড়ায় ফেলে এসেছে। আমরা তার ফাঁসি চাই।”
মামলা না নেওয়ায় সড়ক অবরোধ
পরিবারের অভিযোগ, রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় ওসমানীনগর থানা পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছিল। ফলে ক্ষুব্ধ স্বজনরা নিহতের মরদেহ নিয়ে থানার সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার
প্রায় দেড় ঘণ্টা চলমান অবরোধ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাস ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, অভিযুক্ত বুলবুল মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
