সিলেট, ১৬ জুলাই ২০২৫ | সুপ্রভাত সিলেট ডেস্ক
সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক ও জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সেলর (মিনিস্টার লোকাল) কাজী এমদাদুল ইসলামের অবস্থান নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও নানা গুঞ্জন।
গত ৩০ জুন তার ‘বিদায়’ হলেও সরকারি কাগজপত্রে তাকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে ‘যোগদান’ করতে দেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোথায় আছেন, তার কোনো তথ্য নেই।
বিমানবন্দর, স্থলবন্দর কিংবা নৌবন্দরে তার আগমনের কোনো রেকর্ড নেই। এমনকি জনপ্রশাসন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সৌদি আরবে বাংলাদেশ কনস্যুলেটও তার অবস্থান জানে না। জেদ্দা মিশনের ওয়েবসাইট থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং কাউন্সেলরের পদটি শূন্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।
সরকারি নথিতে যোগদান দেখিয়ে দায়িত্ব শেষ হলেও, তার শারীরিক অনুপস্থিতি প্রশাসনের নিয়মনীতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা দেশের মাটিতে না ফিরেও ‘যোগদান’ করতে পারেন?
২০১৮ সালের বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়োগ রাজনৈতিক প্রভাবেই হয়, আর পূর্বের ডিসি নুমেরী জামানকে নিরপেক্ষ আচরণের কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়েও জনমনে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলার এই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা কর্মকর্তার ‘সম্পদ বর্ধন’ ও ‘অদৃশ্য হয়ে যাওয়া’—দুটিই প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করছে।
সংশ্লিষ্ট মহল এই ঘটনাকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার সংকট হিসেবে দেখছেন এবং স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
