নিজস্ব প্রতিবেদক :
হাকালুকি হাওরের মৌলভীবাজারের বড়লেখা অংশের কৈয়ারকোনো মৎস্য অভয়াশ্রম (বিল) ও ইজারাবিহীন মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। কৈয়ারকোনো মৎস্য অভয়াশ্রম (বিল) দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা মো. সোলেমান আহমদ গংদের মদদে কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রমে অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে।
শুধু কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রমই নয় পাশের ইজারাবিহীন মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল থেকেও অবৈধভাবে মাছ শিকার চলছে। মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল নিজে ইজারা নিয়েছেন দাবি করে মো. সোলেমান আহমদ এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি (জলমহাল) করেছেন। ওই ব্যক্তি প্রায় ১ মাস ধরে সেখানে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গত ২৮ এপ্রিল পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় মাছের বংশবৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১০ ও ২০১১ সালে হাকালুকি হাওরের ১২টি বিলকে (জলমহাল) স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল সরকার। এরমধ্যে কৈয়ারকোনো বিলও রয়েছে। ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইকোসিস্টেমস্ এন্ড লাইভলিহুডস্ (ক্রেল) প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় কৈয়ারকোনো বিলটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেখাশোনা করত তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা ভিসিজি (ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ)। এরপর ক্রেলের প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অভয়াশ্রম দেখাশোনা করেন হাল্লা ভিসিজির লোকজন। কিন্তু যাদের উপর এই অভয়াশ্রম দেখাশোনার দায়িত্ব সেই সমিতির কয়েকজন অবৈধভাবে বিল থেকে লোকজন দিয়ে মাছ শিকার করা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা এ কাজটি করে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসন) তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় ফের সমিতির লোকজন অবৈধভাবে লোকজন দিয়ে মাছ শিকার শুরু করেছেন। এ সমিতির দায়িত্বে থাকা মো. সোলেমান আহমদ, রিয়াজ উদ্দিন কুটু, শাহাব উদ্দিন তাদের লোকজন দিয়ে অভয়াশ্রম থেকে প্রতিদিন মাছ শিকার করাচ্ছেন। এই ৩ জনের সাথে মৎস্য বিভাগের দহরম-মহরম সম্পর্ক থাকায় অনৈতিকভাবে মাছ শিকার করিয়েও তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রমের পাশের মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল নিজে ইজারা নিয়েছেন দাবি করে আব্দুল খালিক নামের এক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি (জলমহাল) করেছেন মো. সোলেমান আহমদ। ওই ব্যক্তি প্রায় ১ মাস ধরে সেখানে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন। গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় লোকজন তাকে সেখানে মাছ শিকারে হাতেনাতে ধরেন। তখন আব্দুল খালিক জানান তিনি মো. সোলেমান আহমদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকায় জলমালটি ১ বছরের জন্য কিনেছেন। তাই তিনি সেখানে মাছ শিকার করছেন।
অভয়াশ্রম থেকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করানো ও ইজারাবিহীন জলমহাল ইজারা না নিয়ে ইজারার দাবি করে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে মো. সোলেমান আহমদের সাথে কথা হয়। সোলেমান আহমদ তার বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। আমি তাদের বিরুদ্ধের মানুষ হওয়ায় তারা আমার পিছনে লেগেছে। তাছাড়া আমি মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল ইজারা নিয়েছি দাবি করে বিক্রি করেছি এটা সঠিক নয়। আমি লীজের জন্য আবেদন করেছি। এখনও পাইনি। পেলে সেখানে মাছ শিকার করব।
তবে মো. সোলেমান আহমদের নিকট থেকে মরাকাকড়া-গাংরা জলমহাল ক্রয় করা আব্দুল খালিক বলেন, মো. সোলেমান আহমদের নিকট থেকে আমি ২০ হাজার টাকা দিয়ে এগুলো কিনে মাছ ধরছি। আমি গরীব মানুষ। আমার পেশা মাছ ধরা। তিনি (সোলেমান) আমাকে বিল ইজারা পেয়েছেন জানিয়ে টাকা নিয়েছেন। তাই আমি মাছ ধরছি।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসলাম সারওয়ারের মুঠোফোন একাধিকবার কল দেওয়া হয়। ফোন নম্বর ব্যস্ত পাওয়ায় এ সংক্রান্তে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
