চৌধুরী দুলাল আহমদ, শাহবাজপুর থেকে ফিরে :

বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে সেবার বদলে উল্টো দালাল ও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি মানুষ! সাম্প্রতিক সময়ে শাহবাজপুরের মানুষের মাঝে এখন আলোচনার বড় বিষয় হচ্ছে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের ঘুষ-বাণিজ্য। গত ১ জুন শাহবাজপুরের এক প্রবাসী সচেতন নাগরিক পুলিশর ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে পোস্ট করেন। এরপর শাহবাজপুরসহ পুরো বড়লেখায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ওই প্রবাসীর পোস্ট অনেকে কমেন্ট করে পুলিশের ঘুষ-বাণিজ্য ও হয়রানির বিষয়টি লিখেন। কেউ কেউ আবার নিজের ব্যক্তিগত আইডিতে পুলিশের হয়রানি ও ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ে পোস্ট দেন। আবার অনেকে এসব পোস্টে পুলিশের এহেন আচরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কমেন্ট করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিকের পোস্টের পর এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে ইন্সপেক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাকের যোগদানের পর তদন্ত কেন্দ্রের দুজন এএসআই বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা হলেন- এএসআই নয়ন ও এএসআই মহিউদ্দিন। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা নিচ্ছেন। কেউ পুলিশের হয়রানির ভয়ে, আবার কেউ মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় এসব গোপন রাখছেন। শুধুমাত্র কষ্টের কথাটি নিকটজনের কাছে শেয়ার করেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয় প্রকাশ হয়েছে।

তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ কর্তৃক টার্গেট করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ কয়েকজন মানুষকে হয়রানির বিষয়টি এখন বেশি আলোচনা হচ্ছে স্থানীয় মানুষের মাঝে।

সরেজমিনে ভুক্তভোগী মানুষের সাথে আলাপে জানা গেছে, শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আওতাধীন একটি বাজার থেকে সম্প্রতি এএসআই নয়ন ও কনস্টেবল সুমন মিলে একজন ব্যবসায়ীকে মামলার ভয় দেখি টাকা নেন। বিষয়টি শাহবাজপুরের কয়েকজন সচেতন নাগরিক তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে জানালেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে সাপ্তাহখানেক পর এএসআই নয়ন ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাকের কথা বলে ফের ওই ব্যবসায়ীর নিকট চাঁদা দাবি করেন।

অন্যদিকে তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই নয়ন ও এএসআই মহিউদ্দিন মিলে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মামলার ভয় দেখি টাকা নেওয়ার বিষয়ের বেশ কিছু ওডিও রেকর্ড এ প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। পুলিশ কর্তৃক হয়রানির বিষয়টি চিন্তা করে প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এএসআই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, তিনি আমাদের কাছে সরাসারি ঘুষ দাবি করেননি। তবে ঋণ হিসেবে ৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা চেয়েছেন। তবে আমরা টাকা দেইনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সচেতন নাগরিক এই প্রতিবেদককে পুলিশের হয়রানি ও ঘুষ-বাণিজ্যের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে। স্থানীয় একাধিক সচেতন নাগরিক বলেন, শাহবাজপুর তদন্ত কেন্দ্রীক একটি শক্ত দালাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসব মানুষকে ফোন করে রাজনৈতিক মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে ইনচার্জের নিজস্ব দালাল চক্রের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে রফাদফা হলে ওই ব্যক্তিরা পার পেয়ে যান। আর রফাদফা না হলে ভুক্তভোগীকে পালিয়ে বেড়াতে হয়। এরকম ৪ জন ব্যক্তির কাছে দালাল মারফত বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক। ওই ব্যক্তিরা টাকা দিতে না পারায় ইনচার্জ তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ পাঠান। কিন্তু এরা কেউই কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী না, সাধারণ মানুষ। তারা এখন পুলিশের হয়রানির ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বড়লেখার শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ ইন্সপেক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার কোনো পুলিশ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নয়। সংখ্যালঘুকে হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি কাউকে ভয়ভীতি দেখাইনি। এগুলো সঠিক নয়।

দালালচক্র গড়ে তোলার অভিযোগ অস্বীকার করে ইন্সপেক্টর মো. আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। আর ফাঁড়িতে কোনো মামলা নেওয়া হয়না। কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে এলে আমরা বড়লেখা থানায় পাঠিয়ে দিই। সেখানে মামলা হলে আমাদের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাই ফাঁড়িতে কেউ আসেনা।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *