বিয়ানীবাজার, সিলেট | ১৬ জুলাই ২০২৫ | সুপ্রভাত সিলেট ডেস্ক
সাহসী ও মেধাবী সাংবাদিক শহীদ আবু তাহের মো. তুরাবকে ‘টার্গেট কিলিং’-এর শিকার আখ্যা দিয়ে তার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা–উন–নবী।
রোববার (১৩ জুলাই) দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌর মিলনায়তনে শহীদ তুরাব স্মরণে নাগরিক কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“তুরাবের মতো যারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন,
“বিপ্লবের পর যদি বিপ্লবী সরকার না আসে, তবে সেই বিপ্লবের স্বাদ থেকে যায় প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমান সরকারে বিপ্লবীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সেটি পুরোপুরি বিপ্লবী নয়, এজন্য অনেক কিছুই ধীরগতিতে চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদের উত্থান প্রতিহত করতে হবে।”
বক্তাদের বক্তব্যে বিচারহীনতার ক্ষোভ
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক মুকতাবিস–উন–নূর এবং ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান। তারা শহীদ তুরাবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,
“তুরাব হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়।”
শহীদ তুরাবের বড় ভাই আবুল আহছান মো. আযরফ জাবুর স্মৃতিচারণে বলেন,
“তুরাব তার আদর্শ, সাহসিকতা ও সত্য প্রকাশের নীতিতে কখনো আপোষ করেননি। এজন্যই তিনি শহীদের মর্যাদা পেয়েছেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
- সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির
- সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম
- বিয়ানীবাজার ইউএনও গোলাম মোস্তফা মুন্না
- নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার
- প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল
- ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল
- বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব সেক্রেটারী তোফায়েল আহমদ
- শিক্ষাবিদ মাওলানা জমির হোসেন
শ্রদ্ধা, জিয়ারত ও প্রাইজবন্ড উপহার
আলোচনা সভার আগে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা–উন–নবী ‘শহীদ তুরাব চত্বর’ উদ্বোধন করেন এবং শহীদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদ তুরাবের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড উপহার দেন।
স্মরণ ও স্বীকৃতি
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সিলেটে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাহসী সাংবাদিক আবু তাহের মো. তুরাব। তাকে স্মরণে ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে ‘শহীদ তুরাব চত্বর’ এবং ‘শহীদ তুরাব স্মারক পুরস্কার’।
