সিলেটের ইতিহাসে প্রথম শহীদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে আজ গভীর শ্রদ্ধা ও প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। স্বৈরাচারবিরোধী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিতে নিহত হন এই সাংবাদিক। তার মৃত্যুর একবছর পূর্ণ হলেও এখনো সকল খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি, যা নিয়ে সাংবাদিক সমাজে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, জুমার নামাজের পর সিলেট নগরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ চলাকালে বন্দরবাজার এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। এ সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং পুলিশের সদস্যদের গুলিতে তার বুকে ও মুখে উপর্যুপরি গুলি লাগে। পরে ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যায় তিনি শহীদ হন। ময়নাতদন্তে তার দেহে ৯৮টি ছররা গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়।

এটিএম তুরাব ছিলেন জাতীয় দৈনিক ‘নয়া দিগন্ত’র সিলেট ব্যুরো প্রধান ও স্থানীয় দৈনিক ‘জালালাবাদ’-এর স্টাফ রিপোর্টার। তার বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর গ্রামে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম ও মমতাজ বেগমের সন্তান।

হত্যাকাণ্ডের পর সিলেটের সাংবাদিকরা ব্যাপক ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তবে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশ সাংবাদিক হত্যার বিচার না করে উল্টো বিএনপি ও ছাত্রদলকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। সেই অনুকূল পরিস্থিতিতে, শহীদ তুরাবের ভাই আবুল হোসেন মোহাম্মদ আজরফ জাবু ১৯ আগস্ট সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন। এতে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ও ২৫০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি করা হয় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাদেক কাউসার দস্তগীরকে।

আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ডভুক্ত হলেও অধিকাংশ আসামি এখনো অধরা। পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে মাত্র দুজন— এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ সাদেক কাউসার দস্তগীর ও কনস্টেবল উজ্জল সিংহকে গ্রেফতার করে। বাকি আসামিরা আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

শহীদ এটিএম তুরাবের শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের সাংবাদিক সমাজ নতুন উদ্যমে বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবসহ একাধিক মিডিয়া সংগঠন মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্মরণসভা, মানববন্ধন, প্রতীকী অনশন, দোয়া মাহফিল এবং আলোচনাসভা।

সাংবাদিক সমাজের একটাই দাবি— “শহীদ এটিএম তুরাবের খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।”

সিলেটবাসী আজও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে সাহসী এই কলমযোদ্ধাকে, যিনি জীবনের বিনিময়ে সত্য প্রকাশের দায় পালন করেছিলেন।

 

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *