সিলেট, ৫ আগস্ট ২০২৫ —
আজ ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন পতনের এক বছর পূর্ণ হলো। এই অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মানুষ শহীদ হন, তবে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলাই দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ত্যাগ—মাত্র দুই দিনে সেখানে শহীদ হন সাতজন।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট অভ্যুত্থান পর্বে গোলাপগঞ্জের ছয় তরুণ গুলিতে প্রাণ হারান, আর ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন শহীদ হন আরও একজন। এই নির্মম হত্যাযজ্ঞের এক বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে, আর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শহীদ পরিবারগুলো।
শহীদদের পরিচয়:
১. নাজমুল ইসলাম (২৪) — নিশ্চিন্ত গ্রাম, মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে
২. জয় আহমদ (১৮) — দক্ষিণ রায়গড়, মৃত ছুরাই মিয়ার ছেলে
৩. সানি আহমদ (২২) — পশ্চিম আমুড়া শিলঘাট, কয়ছর আহমদের ছেলে
৪. তাজ উদ্দিন (৩৯) — বারকোট, মৃত মকবুল আলীর ছেলে
৫. মিনহাজ আহমদ (২৩) — দত্তরাইল, আলা উদ্দিনের ছেলে
6. গৌছ উদ্দিন (৩৫) — উত্তর ঘোষগাঁও, মোবারক আলীর ছেলে
৭. মো. পাবেল আহমদ কামরুল (২৩) — কানিশাইল গ্রামের হাফেজ, শহীদ ৫ আগস্ট
পরিবারের আর্তনাদ ও হতাশা
সানি আহমদের বাবা, কয়ছর আহমদ বলেন,
“সানি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা দিশেহারা। মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু একবছরেও অগ্রগতি নেই।”
শহীদ গৌছ উদ্দিনের ভাই আবুল কালাম বলেন,
“ভাই রাজনীতি করতো না। ছাত্রদের ওপর নির্যাতন দেখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। আজও বিচার শুরু হয়নি, কবে হবে তাও জানি না।”
পাবেল আহমদের বাবা রফিক উদ্দিন জানান,
“আমার ছেলে একজন হাফেজ, ২৮ পারা মুখস্থ করেছিল। তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হলো। মামলা করেছি, বিচার পাইনি। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।”
তদন্তে ধীরগতি, আসামিদের অনেকে পলাতক
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন,
“আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন, তবে কেউ কেউ প্রবাসে পালিয়েছেন, আবার কেউ জামিনে রয়েছেন। মামলাগুলোর তদন্ত সিআইডি ও পিবিআই করছে। শিগগির চার্জশিট দেওয়া হবে।”
প্রশাসনের আশ্বাস
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পাল বলেন,
“শহীদ পরিবারগুলো আমাদের জন্য গর্বের। উপজেলা প্রশাসন তাদের পাশে আছে এবং থাকবে। তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভোলার নয়।”
