আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইনকিলাব মঞ্চ; একই তথ্য জানানো হয়েছে ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও।

ইনকিলাব মঞ্চের এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় মহান বিপ্লবী ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।”
এদিকে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শোক জানিয়ে লেখেন, “আমাদের ভাই হাদি রওনা দিয়েছেন অনন্তের পথে। আবরার, আবু সাঈদদের মতো হাদি না থেকেও আরও বেশি করে থাকবেন বাংলাদেশের বুকে। ইউ ফেইলড টু কিল ওসমান হাদি!”

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ওসমান হাদি পরে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব হন। নিয়মিত টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে তার যুক্তিতর্কের নানা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। গত নভেম্বরে ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ ক্যাডাররা তাকে নজরদারিতে রেখেছে। তবু প্রাণনাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও ইনসাফের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসী রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হলে তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সরকার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠায় এবং চিকিৎসা তদারকিতে প্রতিনিধি দলও পাঠানো হয়। তবে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বুধবার রাতে সরকার জানায়, তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে হাদির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানান।

এ ঘটনায় গুলিবর্ষণে জড়িত মূল সন্দেহভাজন হিসেবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখের নাম উঠে এসেছে; তারা ভারতে পালিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সলের বাবা হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *