তদন্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিদ্যমান গঠনতন্ত্রে বেশ কিছু ত্রুটি ও অসঙ্গতি উঠে এসেছে। এসব সংশোধন না করা হলে ভবিষ্যতে নির্বাচনকে হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। এ কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির ৩৪ পৃষ্ঠার সামারি প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, শুনানিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের লিখিত বক্তব্য এবং অন্যান্য জমাকৃত কাগজপত্র মিলিয়ে মোট নথির পরিমাণ হাজার পৃষ্ঠা ছাড়িয়েছে।
গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা কিছু সুপারিশ করেছি, যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা যায়। বোর্ড-সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয়ে গাইডলাইন দেওয়ারও চেষ্টা করেছি। গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়টিও এর মধ্যে রয়েছে।”
গত ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ক্যাটাগরি-১-এ গঠনতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ সামনে আসে। ক্লাব কোটার নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এসব অভিযোগ তদন্তে গত মাসে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করা হয় এবং তাদের জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এ সময় এনএসসি চেয়ারম্যান ও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তার কাছেই প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনটি বিসিবির গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—তা পর্যালোচনা করেই প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে এতে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বিচারপতি আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যা পাওয়া গেছে, সেটিই যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।”
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশন। তাদের সদস্যদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হলেও তারা সরাসরি উপস্থিত হননি। তবে তারা লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান।
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা উপস্থিত করার চেষ্টা করেছি। যারা আসেননি, তারা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন, যা আমরা গ্রহণ করেছি।”
