সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের দোকানপজিশনধারী ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ অমান্যের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দোকানগুলো তালাবদ্ধ করায় তারা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. ইনামুল করিম চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা জানান, ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত দরপত্রের ভিত্তিতে তারা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় এক কোটি টাকা সেলামি দিয়ে সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ১ থেকে ৭ নম্বর দোকান স্থায়ীভাবে ভাড়া নেন। পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও মসজিদ ট্রাস্টের সঙ্গে পৃথক সাতটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তারা বৈধ ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অনেক ব্যবসায়ী আগাম ভাড়াও পরিশোধ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, চলতি বছরের ১০ মার্চ মসজিদ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এক নোটিশে জানানো হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে দোকান খালি করে বুঝিয়ে দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এ সিদ্ধান্ত একতরফা, বেআইনি এবং চুক্তির শর্তের পরিপন্থী।

তারা বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ট্রাস্ট বা জেলা প্রশাসনের একতরফাভাবে চুক্তি বাতিলের কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। এছাড়া ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি।

এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে গত ১২ মার্চ আদালত দুই মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পৃথক আরও দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ নোটিশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আদালতের এ আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় গত ২৫ মার্চ বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মার্কেটে গিয়ে দোকান বন্ধের নির্দেশ দেন। পরদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে দোকানগুলোর শাটারে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যদিও ভেতরে কোটি টাকার পণ্যসামগ্রী ছিল। এতে পচনশীল পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার চেষ্টা করলেও তারা সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

তারা বলেন, প্রায় ২৬ থেকে ২৭ বছর ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এমন অবস্থায় হঠাৎ চুক্তি বাতিল ও উচ্ছেদের চেষ্টা শুধু তাদের নয়, দেশের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে তালাবদ্ধ দোকান খুলে দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা না দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামিল আহমদ তাফাদার, জামিল চৌধুরীর পক্ষে ইনামুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ সানাজ, মো. আলী হোসেনের পক্ষে আল আমিন আহমদ, আলী হায়দারের পক্ষে মো. আব্দুর রহিম বাদশা, হাফিজ ওয়াসিল আলীর পক্ষে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *