যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সিলেট সফরে এসে নগরীর ঐতিহাসিক ও পর্যটন আকর্ষণগুলোর মধ্যে কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি এবং চাঁদনীঘাট এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চায়েরও স্বাদ নেন।
মঙ্গলবার সকালে সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রদূত শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
দুপুরে তিনি কিন ব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি ও সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে আলী আমজাদের ঘড়িঘরের সামনে মার্কিন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়। পরে সুরমা নদীর তীরে কিছু সময় কাটিয়ে ছবি তোলেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউসে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রদূত সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় করেন এবং নগর পরিচালনা, জনসেবা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে আগ্রহের সঙ্গে খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, এ সৌজন্য সাক্ষাৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সকালে নগরীর একটি হোটেলে শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পর্যটন সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অঞ্চলের উন্নয়নের বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
সার্কিট হাউসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে সিলেটের উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে সম্প্রতি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিলেটের প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
