মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় চলমান বন্যার পানিতে ডুবে আশরাফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ভাঙারহাট-আকুয়া এলাকার একটি রিং বাঁধের পাশে তার মরদেহ ভাসতে দেখা যায়।
নিহত আশরাফ আলী আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের ধারণা, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে বাড়ির আশপাশ প্লাবিত হওয়ার পর কোনো এক সময় স্রোতে পড়ে তিনি নিখোঁজ হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে আকুয়া এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে গেলে দ্রুত লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ওই সময় বন্যার পানিতে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন আশরাফ আলী।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা রিং বাঁধের পাশে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে নিহতের ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, আশরাফ আলীর মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। বন্যার কারণে এলাকায় চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর-হরিপাশা এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল ও পণ্ডিতনগর। এছাড়া রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর ও ভাঙারহাট এলাকাও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। দুর্গত মানুষ খাবার পানি, গোখাদ্য ও আশ্রয় সংকটে পড়েছেন। অনেকের বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় কেউ মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের উঁচু স্থানে, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
