সুপ্রভাত সিলেট
সম্পাদক: দুলাল আহমেদ
বিশ্লেষণধর্মী বিশেষ প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন | সুপ্রভাত সিলেট | ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রকাশিত সর্বশেষ জাতীয় জরিপে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জরিপে দেখা গেছে— প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মদক্ষতায় জনগণের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত এই জরিপে ৬৯ শতাংশ বলেছেন— ড. ইউনুস ‘ভালো কাজ’ করছেন। আর ৭০ শতাংশ নাগরিকের মতে— অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক।
সম্পাদক দুলাল আহমেদের বিশ্লেষণ
জরিপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সুপ্রভাত সিলেট–এর সম্পাদক দুলাল আহমেদ বলেছেন—
“দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দলীয় সংঘাত ও ক্ষমতাবানদের দুঃশাসনের পর মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। ইউনুসের নেতৃত্বে যে স্বস্তি ও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলছে— এই জরিপে তারই প্রতিফলন।”
তার মতে— মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিকে।
দুলাল আহমেদ আরও বলেন—
“জনগণ বুঝতে পেরেছে— অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিযোগিতা নয়; বরং রাষ্ট্রের মৌলিক স্থিতিশীলতা পুনর্গঠনের জন্য কাজ করছে। এই আস্থা ধরে রাখতে হলে স্বচ্ছতা, বিচারহীনতার অবসান এবং প্রশাসনিক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।”
ভোটের প্রতি আগ্রহ ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা
জরিপে দেখা গেছে—
- ৬৬% নাগরিক খুব সম্ভবত ভোট দেবেন
- ২৩% কিছুটা সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন
- এবং ৮০% বিশ্বাস করেন— নির্বাচন হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ
দুলাল আহমেদ মনে করেন—
“এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। দেশের মানুষ ক্লান্ত বিভাজন রাজনীতি থেকে। তারা চায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব।”
জরিপের পদ্ধতি
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত সম্মানিত গবেষণা দলটি সারা দেশের ৬৩ জেলার ৫০০ স্যাম্পলিং ইউনিটে ৪,৯৮৫ জন ভোটার বয়সী মানুষের সঙ্গে বাড়িতে সাক্ষাৎকার নেয়।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বয়স–লিঙ্গভিত্তিক ওজন নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে ফলাফল জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক।
মার্জিন অব এরর সর্বোচ্চ ±১.৪%।
শেষ কথা – জনআস্থা কি টিকে থাকবে?
দুলাল আহমেদ মনে করিয়ে দেন—
“এই আস্থা একদিনে তৈরি হয়নি— আবার একদিনে নষ্টও হবে না। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে বড় পরীক্ষাটা এখনই: নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করা।”
তিনি যোগ করেন—
“বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে দরকার একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যদি এই গতি অব্যাহত থাকে— দেশ আবারও নতুন পথে এগিয়ে যেতে পারবে।”
