আশা-নিরাশার টানাপোড়েন; কেউ বলছেন গুণগত পরিবর্তন এসেছে, কেউ বলছেন হতাশাজনক
বিয়ানীবাজার, সিলেট:
জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পার হলো। দেশের অনেক জায়গার মতো সিলেটের বিয়ানীবাজারেও এই সময়জুড়ে আন্দোলনের নানা চিত্র দেখা গেছে। এক বছরের মাথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী সময়ের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে চলছে নানা মূল্যায়ন। কারও চোখে এই সময়কাল আশার আলো, কারও চোখে নিরাশার ঘনঘটা।
অনেকেই মনে করছেন, দেশে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থনীতির অবস্থা ‘আগের চেয়েও খারাপ’, জানমালের নিরাপত্তা কমেছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া নেই বলেই অভিযোগ তাদের। তবে অন্য অংশ বলছেন, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে, কেউ গুম হয়নি, মানুষ সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে পারছে—এগুলোই বড় অর্জন।
বিয়ানীবাজারের মোবাইল আর্থিক লেনদেন ব্যবসায়ী ও আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী কাউসার আহমেদ বলেন, “জুলাই আন্দোলন ছিল কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। এখন মানুষ প্রশাসন বা সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করতে ভয় পায় না। এটি বড় পরিবর্তন।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, “বিয়ানীবাজারে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আগের প্রকল্পগুলো থেমে আছে।”
বিয়ানীবাজার সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আমান উদ্দিন বলেন, “আন্দোলনের নেতারা মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছাতে পারেননি। জনগণ শান্তিতে থাকবে—এই প্রতিশ্রুতি তারা বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি। পড়ালেখা না শেষ করেই অনেকে রাজনীতিতে ঢুকেছে, ফলে তারা নিজেদের স্বার্থে বেশি আগ্রহী।”
বিএনপি, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও দিয়েছেন মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
- বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ বলেন, “আন্দোলনের ইতিহাস আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাখতে হবে।”
- কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম বলেন, “মানুষ দ্রুত সংস্কার চায়। দৃশ্যমান কিছু ঘটেনি।”
- যুব জমিয়ত নেতা হাফিজ আব্দুল্লাহ বলেন, “আন্দোলন যৌক্তিক ছিল, কিন্তু এর পরে দেশ আবার এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন কেউ কাউকে মানে না।”
- জামায়াতের নেতারা, যেমন কাজী জমির হোসাইন ও ফয়জুল ইসলাম, বলেন, “মানুষ নির্যাতনের ভয় থেকে মুক্ত হয়েছে। আগে কথা বলার স্বাধীনতা ছিল না, এখন তা আছে।”
জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সাংবাদিক আবু তাহের তুরাবের ভাই আবু জাফর জাবু বলেন, “আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার। এখনো সেই লক্ষ্য পূরণের আশাবাদ আছে, তবে শহীদদের বিচারের বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন মনে করেন, “অর্থনীতিতে উন্নতি হচ্ছে, বড় বড় ঘটনার বিচার শুরু হয়েছে, দ্রব্যমূল্য কমেছে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক শাহরিয়ার আলম সানি বলেন, “জুলাই আন্দোলন তাৎক্ষণিক নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ছিল। তবে কাঠামোগত সংস্কার এখনো চোখে পড়ে না।”
সরকারের সদিচ্ছা ও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে এক বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আন্দোলনের কারণেই সরকার অনেক কিছু করছে। বাজারদর, রাস্তাঘাট, ভিআইপি মুভমেন্ট—সবকিছুতেই কিছু না কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।”
উপসংহার:
