পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। গরম ও যানজট উপেক্ষা করে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশে যাত্রা করতে হাজারো যাত্রী ভিড় করছেন এই নৌবন্দরে। তবে দীর্ঘ ছুটি হওয়ায় নগরবাসী আস্তে ধীরে রাজধানী ছাড়ছেন। ফলে টার্মিনাল এলাকায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ভিড় বাড়লেও চাপ দেখা যায়নি।

 

এদিকে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন রাজধানীবাসী। আজ যাত্রীদের ভিড় না থাকলেও আগামীকাল (বুধবার) থেকে যাত্রীর চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীরা আসছেন।

পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আগেভাগেই ঘাটে এসে অবস্থান নিচ্ছেন, যাতে নির্ধারিত লঞ্চে উঠতে পারেন। অনেক যাত্রী লঞ্চ ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই এসে বসে আছেন। সকালে তেমন ভিড় ছিল না। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ও বাড়তে থাকে টার্মিনালে।
বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা রুটে যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিকেল ৪টার মধ্যে বেশির ভাগ লঞ্চের কেবিন বুক হয়ে গেছে। 

banglanews24

এছাড়া নতুন পন্টুন স্থাপন করায় আয়তন ও প্রস্থ বেড়েছে টার্মিনালের। ফলে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে লঞ্চে উঠতে পারছেন। পন্টুনগুলোতে যাত্রীদের তেমন কোনো ভিড় দেখা যায়নি।

দূরপাল্লার লঞ্চগুলো বিকেল ৪টা থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে সদরঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়েই লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। ঈদে আনন্দের সঙ্গে ঘরে ফেরার এ যাত্রা যেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়, এটিই এখন সব যাত্রীর প্রত্যাশা। 

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নৌ-প্রশাসন জানায়, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বারবার মাইকিং করে নিরাপদে যাত্রার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

বেতুয়া, চরফ্যাশন যাবে এমভি টিপু-১৩ লঞ্চের যাত্রী মো. সুজন সরদার বাংলানিউজকে বলেন, পরিবার নিয়ে ঈদ করব, তাই দুপুর ১২টায় বাইপাইল থেকে রওনা হয়েছি। রাত পৌনে ৮টায় লঞ্চ ছাড়বে। ভিড় এড়াতে একটু তাড়াতাড়ি চলে এসেছি। এসে দেখি যাত্রী নেই। এবার ছুটি বেশি পাওয়ায় সবাই ধীরে বাড়ি যাচ্ছে। ফলে টার্মিনালে ভিড় ও ভোগান্তি কোনোটিই নেই।

banglanews24

এমভি পূরবী লঞ্চের যাত্রী রাবেয়া আক্তার বাংলানিউজকে বলেন, মালিবাগ থেকে এসেছি লালমোহন যাব। আজ থেকে ছুটি, তাই ভিড় ও ঝামেলা এড়াতে আগেই লঞ্চে চলে এসেছি। এখন কোনো ভিড় নেই, লঞ্চ ভরে গেছে, সাড়ে ৭টায় ছেড়ে দেবে।

নাজিরপুর, লালমোহন, ধুলিয়া, দেউলা, দেবীরচর রুটে চলাচল করে গ্লোরি অব শ্রীনগর-৭। লঞ্চটির কেবিন ইনচার্জ মো. সরোয়ার বাংলানিউজকে বলেন, লঞ্চ সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে যাবে। ৬৫টি কেবিনের সব কটি ভাড়া হয়েছে। তবে এখনো যাত্রীদের চাপ কম। আশা করছি আগামীকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। এছাড়া এ বছর সদরঘাটের চাপ কমাতে বসিলা ও কাঞ্চনব্রিজ থেকেও লঞ্চ ছাড়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। আমরা অতিরিক্ত কোনো যাত্রী নিচ্ছি না।

ইলিশা, কালীগঞ্জ রুটে চলাচল করে এমভি ইয়াদ-১। এ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সেলিম বাংলানিউজকে বলেন, বসিলা থেকে সাড়ে ৫টায় ছেড়ে আসছি। এখান থেকে রাত সাড়ে ৯টায় ছাড়া হবে। আজ যাত্রী কম থাকলেও আগামীকাল থেকে যাত্রী বাড়বে বলে আশা করছি। যাত্রীসেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। আমরা সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছি।

banglanews24

মনপুরা-হাতিয়া রুটে চলাচল করে এমভি ফারহান-১০। লঞ্চের কেরানি মো. মাসুদ আলম বাংলানিউজকে বলেন, যাত্রীর চাপ কম। তবে আগামীকাল থেকে গার্মেন্টস ছুটি হলে চাপ বাড়বে। ৬১টি কেবিনের সব কটি বুক হয়েছে। ডেকও ভরেছে। আমরা অতিরিক্ত কোনো যাত্রী নিচ্ছি না।

বেতুয়া, চরফ্যাশন রুটে চলাচল করা এমভি টিপু-১৩ লঞ্চের কেরানি মো. দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, রাত পৌনে ৮টায় ছেড়ে যাবে। স্বাভাবিকের তুলনায় যাত্রী বেশি হলেও ঈদ হিসেবে কম। আশা করছি কাল থেকে যাত্রী বাড়বে। ঈদ উপলক্ষ্যে আমরা ভাড়া সরকারি রেট থেকে ৫০ টাকা কম নিচ্ছি। তবে কেবিনের ভাড়া আগেরটাই ছিল। ১৫৭ সিট ও ভিআইপি ১১টি সব কটি বুক হয়েছে। ডেকও ভরে গেছে। অতিরিক্ত কোনো যাত্রী নিচ্ছি না।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সেবা দিতে হবে। আমরা চাই তারা যেন নির্বিঘ্নে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা বিঘ্নের মতো বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। তারপরও সতর্ক থাকব, যাতে যাত্রীসেবার মান বজায় থাকে।

banglanews24

সদরঘাট নৌ থানা কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক বাংলানিউজকে বলেন, যাত্রীসেবায় আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীদেরও কোনো চাপ নেই। তবে আজ সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়বে। আগামীকাল গার্মেন্টস ছুটি হলে চাপ আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

লঞ্চ টার্মিনালে ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের অফিসের বার্থিং সারেং মো. মামুন বাংলানিউজকে বলেন, আজ রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে ছেড়ে গেছে ৭০টি লঞ্চ ও ঢাকায় এসেছে ৬০টি লঞ্চ। আজ রাতে সবমিলিয়ে ১০০টির বেশি লঞ্চ দেশের ৩৭টি রুটে ছেড়ে যাবে। আজ ঈদ হিসেবে যাত্রীদের চাপ কম। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী বেশি। গতকাল (সোমবার) ঢাকা থেকে ৭৬টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে এবং ঢাকায় এসেছে ৫৩টি লঞ্চ।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *