মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত প্রায় ৯টা ১৫ মিনিটে সিলেট নগরের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে এ হামলা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে চার দিন পর, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল), যখন সোয়েব আহমদের মাথা ও শরীরে আঘাতের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারা এবং কী কারণে এই হামলা চালিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে সোয়েব আহমদের ওপর হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সিএনজি অটোরিকশায় নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। রাত প্রায় দুইটার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত এবং কিছুটা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তার ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরিবার বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ করতে চায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। বড়লেখা উপজেলা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, এ ধরনের হামলা নিন্দনীয় এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা উচিত। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারাও এই ঘটনাকে ‘নেক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় পার্টির নেতা আহমদ রিয়াজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
