সুনামগঞ্জ, ৪ আগস্ট ২০২৫:
শ্রমিকদের তিন দফা দাবিকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট। সোমবার সকাল থেকে জেলার বাস টার্মিনালগুলোতে নেই কোনো বাসের গতি। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার সব বাস চলাচল। এতে বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী।
রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাসভাড়া নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের কথা–কাটাকাটির জেরে এই ধর্মঘট শুরু হয়। প্রথমে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে যান শ্রমিকরা, পরে রাত্রিকালীন কর্মবিরতির মাধ্যমে ধর্মঘটে রূপ নেয় তা।
ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সকালে সিলেটগামী বাস ধরতে টার্মিনালে এসে হতাশ হন তাহিরপুর উপজেলার এরশাদ মিয়া। তাঁর এক আত্মীয় চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেটের একটি হাসপাতালে। তিনি বলেন, “বাস চলছে না, কেউ কিছু বলতে পারছে না, খুব বিপদে পড়েছি।”
ঢাকা ফেরত পর্যটক সামিয়ান ইসলাম জানান, “সকালের বাসের টিকিট ছিল, কিন্তু এসে দেখি সব বন্ধ। এখন কিভাবে ঢাকায় ফিরব জানি না। সিলেটেও যাওয়া যাচ্ছে না।”
পরিবহন ব্যবস্থাপকেরা জানান, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রোববার সন্ধ্যায় সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের অনুরোধেও শ্রমিকরা বাস চালাতে রাজি হননি। সোমবার সকাল থেকে অটোরিকশার চালকরাও ধর্মঘটে যোগ দেন, কেউ কেউ গাড়ি চালাতে চাইলে বাধার মুখে পড়ছেন।
শ্রমিকদের তিন দফা দাবি
জেলা বাস-মিনিবাস, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, শ্রমিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির সুষ্ঠু বিচার, আটক শ্রমিক দেলোয়ার হোসেনের মুক্তি এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা ধর্মঘটে গেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিগঞ্জে বাসের সহকারীকে ধাক্কা দিয়ে শিক্ষার্থীরা মারধর ও গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। কিন্তু এসব ঘটনায় কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ দিলেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের ভিন্ন বক্তব্য
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, অর্ধেক ভাড়াকে কেন্দ্র করে প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের সহকারীর সঙ্গে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে সহকারী এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেন। তখন উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাক্কাধাক্কি হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আশ্বাস
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ যেন না হয়, সেটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। আশা করি, দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো যাবে।”
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে অবস্থিত। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এই রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহন শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পূর্বের ঘটনাগুলো এবং প্রশাসনের নিরবতা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।
