সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের খুর্দ্দা মর্জাতপুর শাহী ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন প্রকল্পে চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, মাঠ ভরাটের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারিভাবে ৭ টন ঘম বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়াই তারা স্বেচ্ছাশ্রম, চাঁদা এবং নিজস্ব অর্থায়নে ঈদগাহ মাঠ ভরাট করেছেন। কিন্তু প্রকল্পটি সম্পন্ন দেখিয়ে বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একজন স্থানীয় যুবক জানান, “আমরা নিজেরা টাকা কালেকশন করে মাঠের কাজ করেছি। অথচ এখন শুনছি সরকার থেকে দুই লাখ টাকা এসেছে, সেই টাকার কোনো হদিস নেই।”
একজন প্রবীণ গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদগাহ মাঠের মতো পবিত্র জায়গা নিয়ে কেউ দুর্নীতি করলে সেটা শুধু অপরাধ না, পাপও বটে।”
সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটি প্রস্তাবিত হয় এবং ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন এতে বাস্তবায়নকারী হিসেবে নাম দেন। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠে কোনো সরকারি কাজের চিহ্ন নেই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলিম উদ্দিন বলেন, “আমি বরাদ্দ অনুযায়ী শতভাগ কাজ করেছি। কোনো দুর্নীতি করিনি।”
তবে গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) বাধন কান্তি বলেন, “প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে গ্রামবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, ঈদগাহ কমিটি সে অর্থ পায়নি। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করবো এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ঈদগাহ কমিটির সভাপতির কাছে ব্যাখ্যা চাইব।”
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের কাছে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সচেতন মহল বলছে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অভিযোগগুলোর দ্রুত তদন্ত এবং কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
