যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে জাল অফার লেটার দেখিয়ে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ফতেহপুরের বাসিন্দা নাসির আহমদ শাহীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদরের নাদামপুরের বাসিন্দা রহিম চৌধুরী মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এই মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মামলার তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— একই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রুয়েজ আহমদ, টিবি হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সুহেনা সুলতানা ও সিলেটের ওসমানীনগরের চানপুরের সায়েম আহমদ।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে গত ৩০ মার্চ ওই মামলাটি করেন রহিম চৌধুরী।

তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের ভাগনে সায়েম আহমদের মাধ্যমে কেয়ার ভিসায় লোক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। শাহীন ভিসার জন্য ১৮ হাজার পাউন্ড দাবি করেন। আলোচনার মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার কথা। চুক্তিমতো ১৮ হাজার পাউন্ড তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। শাহীনের আত্মীয় সুহেনা দেশে টাকা গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ, ১০ লাখ, সাত লাখ ও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাদীর বোনও দেন দেড় হাজার পাউন্ড।

রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিন মাসের মধ্যে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা ছিল তাঁকে। নাসির আহমদ শাহীন সে দেশ থেকে একটি অফার লেটার প্রেরণ করেন। পরে তারা জানতে পারেন সেটি জাল। ফলে ভিসা হয়নি। আবার রিভিউ করার জন্য সাত মাস সময় নেন। সেই সময়ের মধ্যেও ভিসা করাতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তারা সময় ক্ষেপণ এবং এক পর্যায়ে তা অস্বীকার করেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে টাকা দাবি করলে প্রাণে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন।

বাদী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট নম্বরে (যা তার আপন বোন ও ভাগনার নামে) আমি টাকা দিয়েছি। যার যথাযথ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। পুরো লেনদেনটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের কথামতো হয়েছে।

রহিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নাসির আহমদ শাহীন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি বলে শুনেছি। তিনি আমাকে অনেক হয়রানি করছেন। আমি তার কারণে চরম পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির আহমদ শাহীন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন; বিষয়টি তাঁর ভাগনে দেখাশোনা করে। তিনি আরও বলেন, রহিম চৌধুরী কেয়ার ভিসার জন্য হাসপাতাল থেকে যে সনদ প্রদান করেন, সেটি সঠিক না হওয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তা দেখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় তাঁকে মামলার আসামি করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *