সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক কৃপেশ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আমলি আদালতের মাধ্যমে কৃপেশকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমদ। তিনি বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে কৃপেশের বিরুদ্ধে মামলা করে।
সোমবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রাম থেকে কৃপেশকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর আগে, তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ করেন একদল লোক। তবে কৃপেশের দাবি, তার নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল থেকে ‘kripash ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর বলে অভিযোগ করা পোস্ট ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর রোববার রাতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তাহিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কৃপেশ। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, তার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
সোমবার সকাল থেকে কৃপেশকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ-মিছিল করেন একদল লোক। খবর পেয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা রাজারগাঁও গ্রামে যান। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে কৃপেশকে হেফাজতে নেয়।
কৃপেশ আগে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলে জানা গেছে। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কৃপেশের প্রতিবেশী কাঞ্চন রায় বলেন, কৃপেশের মূল ফেসবুক আইডিতে তিনি যুক্ত আছেন। তার ভাষ্য, যে আইডি থেকে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে, সেই আইডি থেকে তাকেসহ অনেককে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। রোববার ওই আইডি থেকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পরে রাতে কৃপেশ থানায় জিডি করেন।
কৃপেশের চাচাতো ভাই কিরণ রায় জানান, কৃপেশ সিলেটের লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন কিরণ।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমদ বলেন, কৃপেশের করা জিডির বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করার কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, কৃপেশ পুলিশের একজন অনুপস্থিত সদস্য। তাকে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি তার জিডির বিষয়টিও তদন্ত করা হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, কৃপেশ সিলেট মহানগর পুলিশে কর্মরত ছিলেন। কয়েক মাস আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসার পর তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কৃপেশের দাবি ও তার জিডির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফেসবুক আইডিটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে।
