প্রতিবেদন (সুপ্রভাত সিলেট):
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ডিমাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মীর মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ চুরিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ মে জাতীয় গণমাধ্যমে গাছ চুরির খবর এবং ২৮ মে শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ এবং সংবাদ পর্যালোচনার ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মীর মুহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাটার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতি, বরাদ্দকৃত অর্থের অপব্যবহারসহ বিভাগীয় মামলা রুজু করেছে।
জানা গেছে, গত ৯ মে বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ বছর বয়সী একটি আকাশী গাছ এবং অন্যান্য গাছের কাঠ কেটে শিক্ষক নিজ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় এবং তাকে বদলি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
মীর মুহিবুর রহমান বিদ্যালয়ে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন আসেন, নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে হাজিরা জালিয়াতি করেন। এছাড়াও, নিজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ফারিহা লাইব্রেরীতে সময় কাটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে নোট-গাইড বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২২ জুন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে এবং কেন তাকে বরখাস্ত করা হবে না তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, মীর মুহিবুর রহমানের অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলাবিধিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
— সুপ্রভাত সিলেট সংবাদ।
