মাজার কর্তৃপক্ষের আপত্তি ও অসন্তোষের মধ্যেই সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সোমবার দুপুরে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু হয়।
সিলেটের সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উপস্থিতিতে গণনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি স্থান ত্যাগ করেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণনার কাজ চলমান ছিল বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনে মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ গণনা করা হচ্ছে। এ কাজে ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তা তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও গণনাকাজে সহযোগিতা করছেন।
তদারকির সঙ্গে যুক্ত একজন জানান, জোহরের নামাজের পরপরই অর্থ গণনা শুরু হয়। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে হিসাব সম্পন্ন করতে টাকা গণনার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। গণনার সময় দানবাক্স থেকে স্বর্ণালংকার, সৌদি রিয়াল, মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বর্ণের চেইন, আংটি এবং ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরোও উদ্ধার হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দানবাক্সে এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের পরিমাণ বেশি হলেও ১০০, ৫০, ২০ ও ১০ টাকার নোটও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের তিনটি ডেগে সিলগালা করে এবং অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে মাজার-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা মাজারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন।
এ ঘটনার জেরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রোববার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তবে সিলেট ছাড়ার আগে সোমবার তিনি দ্রুত দানবাক্সের অর্থ গণনার কার্যক্রম শুরু করেন। যদিও এর আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, দানবাক্সের অর্থ ১৫ দিন পর গণনা করা হবে।
