মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে রচিত হলো দীর্ঘ ১১ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের নতুন ইতিহাস। শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকীয় এক লড়াই শেষে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। টানটান উত্তেজনার এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। একই সঙ্গে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে ৯ নম্বরে উঠে এলো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ২৯০ রান। রান তাড়ায় নেমে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত গুটিয়ে যায় ২৭৯ রানে। ১১ রানের দুর্দান্ত জয়ের মূল কারিগর ওপেনার তানজিদ হাসান ও পেসার তাসকিন আহমেদ। ব্যাট হাতে তানজিদ তুলে নেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। আর বল হাতে গতির ঝড় তোলেন তাসকিন। শুরুতে পাকিস্তানের টপ অর্ডারে ধস নামানোর পাশাপাশি পরে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা ব্যাটসম্যানদের উইকেটও তিনি শিকার করেন। তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল একদম শেষ ওভারে। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বল হাতে আক্রমণে আসেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। চরম স্নায়ুচাপের এই সময়ে দারুণ বোলিং করে দলকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দেন এই তরুণ।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান তোলেন ১০৫ রান। সাইফ এক প্রান্তে সাবধানী থাকলেও অন্য প্রান্তে তানজিদ শুরু থেকেই ছিলেন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। মাত্র ৪৭ বলে তিনি ফিফটি পূরণ করেন। এরপর সাইফ ৩৬ রান করে শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হন। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ। শান্ত ২৭ রান করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। তবে নিজের স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যান তানজিদ। দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি পৌঁছে যান শতরানের মাইলফলকে। ১০৭ বলে খেলা তার ১০৭ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায়। আবরার আহমেদের বলে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন। শেষের দিকে দলের রানের চাকা সচল রাখেন তাওহিদ হৃদয়। ৪৪ বলে ৪৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। লিটন দাস করেন ৪১ রান। শেষ ৫ ওভারে প্রত্যাশিত রান তুলতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। এরপরও বোলারদের লড়াই করার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় স্বাগতিকরা।
২৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। তাসকিন আহমেদ ও তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতির মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ে তাদের টপ অর্ডার। প্রথম ৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাসকিনের লাফিয়ে ওঠা বলে বিদায় নেন ফারহান। পরের ওভারে মাজ সাদাকাতকে বাউন্সারে ফেরান নাহিদ। এরপর অসাধারণ ডেলিভারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্প ভাঙেন তাসকিন। মাত্র ৬৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন সালমান আলি আগা। আগের ম্যাচে রান আউটের হতাশা ভুলে এদিন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তরুণ সতীর্থ সাদ মাসুদ ও ফাহিম আশরাফকে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়েন। মাসুদ ৩৮ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে বোল্ড হন। এক প্রান্ত আগলে রেখে সালমান সেঞ্চুরি পূরণ করেন মাত্র ৮৯ বলে। তার এই ইনিংসে ভর করে ম্যাচে প্রবলভাবে ফেরে পাকিস্তান।
ম্যাচের শেষ ভাগে পরতে পরতে ছড়ায় তীব্র রোমাঞ্চ। সালমানের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন অধিনায়ক আফ্রিদি। পাকিস্তান যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন তাসকিন। তার স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ দেন সালমান। ১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে বিদায় নেন তিনি। তবে এরপরও আশা ছাড়েননি আফ্রিদি। ৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজকে জোড়া ছক্কা হাঁকান তিনি। ওই ওভারেরই পঞ্চম বলে আফ্রিদির শট মুস্তাফিজের হাঁটুতে আঘাত করে। মাঠে দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা শেষে উঠে দাঁড়িয়ে বোলিং শেষ করেন এই বাঁহাতি পেসার। শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান। বল হাতে পান তরুণ রিশাদ। প্রথম বলটি তিনি গুগলি করেন। দ্বিতীয় বলে আফ্রিদি সহজ ক্যাচ তুলে দিলেও রিশাদ সেটি তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন। ফলে উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি রিশাদ। ওয়াইড নিয়েও তৈরি হয় ক্ষণিকের নাটকীয়তা। শেষ বলে আফ্রিদি স্টাম্পড হলে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হয়। শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের আনন্দে মাতে বাংলাদেশ।

By সুপ্রভাত সিলেট

সুপ্রভাত সিলেট (Suprobath Sylhet) একটি দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল। সিলেটসহ সারাদেশের সর্বশেষ সংবাদ, স্থানীয় ঘটনা, জাতীয় খবর, রাজনীতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন ও প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ পাঠকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়াই এই সংবাদমাধ্যমের মূল লক্ষ্য। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পাঠকদের তথ্যসমৃদ্ধ রাখার প্রত্যয়ে কাজ করে সুপ্রভাত সিলেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *