সিলেট মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতা নাসিম হোসাইনের অর্ধকোটি টাকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে নাসিম হোসাইনের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন। পুলিশের দাবি, তারাও এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— দক্ষিণ সুরমার শেখপাড়ার শাহেদ আহমদ (৪২), কমলগঞ্জের কামাল হোসেন (৩৫), কানাইঘাটের আদনান (৩৮) ও আবু তাহের (২৬), জকিগঞ্জের রুপায়ন বিশ্বাস (৪০), দক্ষিণ সুরমার রোমান আহমদ (৪৪), রাজনগরের সালমান আহমদ (২৮), বিশ্বনাথের গোলাম শহীদ (২৯) এবং কানাইঘাটের জুনায়েদ (২২)।
পুলিশ জানায়, শাহেদ আহমদ বিকাশের সিলেট অঞ্চলের সুপারভাইজার এবং আদনান, আবু তাহের ও রুপায়ন বিশ্বাস ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি নাসিম হোসাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের সিলেট বিভাগীয় ডিস্ট্রিবিউটর। ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুক্রবার সকালে ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি কর্মীদের মাধ্যমে ৮১ লাখ ৮২ হাজার টাকা প্রাইভেটকারে পাঠান। পথে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক এলাকায় ছিনতাইকারীরা ৫০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা লুট করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে তিন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল টাকাবাহী গাড়িটিকে থামার সংকেত দেয়। গাড়ির গতি কমানো হলে মোটরসাইকেল আরোহীরা গাড়িটি থামিয়ে ভয়ভীতি ও হামলার মাধ্যমে পাঁচটি ব্যাগে থাকা ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
সিলেট মহানগর পুলিশ আরও জানায়, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা ঝুঁকির বিষয়টি জানার পরও গাড়ির গতি কমিয়ে ডাকাতির সুযোগ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া টাকাবাহী গাড়ির নিরাপত্তায় থাকা স্কর্ট সদস্য রোমান আহমদ, সালমান আহমদ, গোলাম শহীদ ও জুনায়েদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের সঙ্গে আঁতাত করে টাকাবাহী গাড়ির গতিবিধি সম্পর্কে আগাম তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে বিকাশের কয়েকজন কর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।
ঘটনার পর মোগলাবাজার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
