রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দেশের অর্থনীতিকে সুদের বোঝা থেকে মুক্ত করতে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিগত সরকারের আমলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ডকে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ আখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি তুলেছেন।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কায়সার কামাল।
বাজেট আলোচনার শুরুতে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দলের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সংস্কার ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুদের বিষয়টি উল্লেখ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে এই বিপুল সুদের বোঝা গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে তিনি সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ইসলামী অর্থায়নের বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তার মতে, ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া সুকুক (ইসলামী বন্ড) আরও জনপ্রিয় করা গেলে দেশ ধীরে ধীরে সুদমুক্ত অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। এছাড়া বেসিক ব্যাংক, হলমার্ক গ্রুপ এবং পি কে হালদার সংশ্লিষ্ট কেলেঙ্কারির কারণে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিয়ে অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ সৎ করদাতাদের প্রতি অবিচার এবং সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী। তিনি এই সুবিধা বাতিলের দাবি জানান।
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। এই অর্থ দেশে বিনিয়োগ করা গেলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতো। তাই পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) এর উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরেন আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, এলাকার সড়ক অবকাঠামোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতা, সততা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
