ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৯ জুন – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দৈনিক মাতৃজগতের স্থানীয় প্রতিনিধি খন্দকার শাহ আলম-এর ওপর হামলা ও পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। সংগঠনটি বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ২৫ জুন, নবীনগরে এক প্রাক্তন কারাবন্দী প্রকাশ্যে শাহ আলমের ওপর হামলা চালান। জানা গেছে, শাহ আলমের একটি সংবাদ প্রতিবেদনের কারণে ওই ব্যক্তিকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার দিনই তিনি শাহ আলমকে রাস্তায় মারধর করেন এবং তাঁর মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেন। পরে একই দিনে শাহ আলম তাঁর জিনিসপত্র ফিরে পেতে হামলাকারীর সঙ্গে দেখা করলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে লাথি-ঘুষি মারা হয়। গুরুতর জখম হয়ে অচেতন হওয়ার পর শাহ আলমকে নবীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ দ্রুত হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আরএসএফ’র প্রতিক্রিয়া
আরএসএফ-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি শাহ আলমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এটি একটি নৃশংস ও অগ্রহণযোগ্য হামলা, যা শাহ আলমের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণেই সংঘটিত হয়েছে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অপরাধের দ্রুত বিচার অপরিহার্য।”
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে যে, ২০২৫ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯তম, যা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবারের অভাবকে নির্দেশ করে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা বেড়েছে
আরএসএফ-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংগঠনটি সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা হোক।
স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলোও শাহ আলম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিচারের দাবি তুলে ধরেছে। ঘটনাটি সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্তদের জন্য নতুন করে নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
