সিলেট: আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে টকশোতে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও সিলেট মহানগর নেতারা।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী এবং সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী শনিবার (২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পৃথক বিবৃতিতে নাদেলের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। যদিও নাদেল ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন, তা বিবৃতিতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি।
কয়েস লোদী তার বিবৃতিতে বলেন, “আওয়ামী লীগ তাদের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অপকর্ম আড়াল করতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। কিন্তু কোটি মানুষের ভালোবাসায় অধিষ্ঠিত তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় এই কটুক্তির কোনো প্রভাব পড়বে না।”
তিনি অবিলম্বে শফিউল আলম নাদেলের আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে বলেন।
অন্যদিকে, মিফতাহ্ সিদ্দিকী তার বিবৃতিতে বলেন, “নাদেল একজন পলাতক আসামি, যিনি একাধিক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। তার মতো একজন ব্যক্তির মুখে জাতির ঐক্যের প্রতীক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করেনি, বরং এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে চরম অপমানজনক উদাহরণ তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব অপপ্রচারে তারেক রহমানের জনপ্রিয়তায় কোনো প্রভাব পড়বে না।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই শফিউল আলম নাদেল আত্মগোপনে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপি নেতারা এ ধরনের ‘দায়িত্বহীন ও কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য প্রত্যাহার না করলে জনগণ তা প্রতিহত করতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
