হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগের পর আবারও আলোচনায় এসেছে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় রাজস্ব (এলআর) ফান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি। এবার এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এলআর ফান্ডের বিষয়টি দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত ব্যবস্থা এবং সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি জানান, এ ধরনের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এলআর ফান্ড মূলত স্থানীয় পর্যায়ে আদায়কৃত রাজস্ব, অনুদান ও বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে গঠিত একটি তহবিল। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এই তহবিল পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এর অর্থ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)সহ বিভিন্ন সংগঠন এলআর ফান্ডকে অডিট ও অধিকতর স্বচ্ছতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
সম্প্রতি সিলেটের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। তিনি মাজারের প্রচলিত তিনটি দানপাত্র (ডেগ) সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব দানবাক্স স্থাপন করেন। তার যুক্তি ছিল, মাজারে দান করা অর্থ জনগণের, তাই সেই অর্থের হিসাব জানার অধিকারও জনগণের রয়েছে।
তবে তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—যদি মাজারের দানের অর্থের হিসাব জনগণের জানার অধিকার থাকে, তবে জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ডের অর্থের হিসাবও প্রকাশ করা উচিত। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে এলআর ফান্ডের আয়-ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের দাবি উঠলেও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এদিকে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়। বিতর্কের মধ্যেই গত রোববার সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে তার প্রত্যাহারের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালিত হয়।
সিলেট ত্যাগের আগে সোমবার তিনি মাজারের দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার ব্যবস্থা করেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দান গণনায় চার দিনে প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলে জানানো হয়।
