২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের নয় মাসের মাথায় দেশ ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
দেশত্যাগের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। বহু ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে একজন হত্যা মামলার আসামি নির্বিঘ্নে দেশ ছাড়লেন। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ সদর থানায় আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম রয়েছে।
“ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার চাই” — সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল
সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করলো কারা? ফেসবুক ব্যবহারকারী লিমা হোসেন লুনা লিখেছেন, “আব্দুল হামিদ স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের একজন সহযোগী ছিলেন। হত্যার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে পালিয়ে যেতে দেওয়া হলো কেন?”
প্রকৌশলী গাজী সাইদুর রহমান তার পোস্টে দাবি করেন, হামিদের সঙ্গে সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, “মিঠামইনের প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট ও ক্যাডার বাহিনী—সবই হামিদের ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ। পুলিশ ও সাংবাদিকদের একটা অংশ সবসময় তাকে সহায়তা করেছে।”
“মিঠামইনের রাস্তায় ডুবেছে সিলেট”
মিঠামইনের হাওরে নির্মিত উড়াল সড়ক ও বাঁধ নিয়ে বহু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোকসানা সোনিয়া নামে একজন লিখেছেন, “আব্দুল হামিদ নিজের স্বার্থে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা নির্মাণ করেছেন, যার ফলে হাওরের পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সারা বছর উঠানে পানি থাকে, ফসল হয় না।”
জুনায়েদ সিদ্দিক লিখেছেন, “এই রাস্তাই প্রতিবছর সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদে থেকেও তিনি ফ্যাসিবাদের প্রতিবাদ না করে বরং তাতে প্রশ্রয় দিয়েছেন।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “একজন খুনিকে নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়, আবার বলা হয় বিচার হবে? এখন পর্যন্ত কী কী সংস্কার হয়েছে তা জনগণ জানতে চায়।”
নেটিজেনরা জোরালোভাবে দাবি করেছেন, যারা আব্দুল হামিদকে পালাতে সাহায্য করেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে যারা এখনও দেশে আছেন, তাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে অন্তর্বর্তী সরকার যেন আরও কঠোর হয়—এই আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
